প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবরের প্রেক্ষিতে ৩৩তম বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল
সার্ভিস) লিখিত পরীক্ষা স্থগিত করেছে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। কাল
রোববার এই পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল। এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে
বেশ কিছুদিন ধরেই খবর পাওয়া যাচ্ছিল।
পিএসসি’র ওয়েবসাইটে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) আ ই ম নেছারউদ্দিন
স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার শনিবার সন্ধ্যায় জানানো হয়, লিখিত পরীক্ষা
স্থগিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘‘৭-১০-২০১২ তারিখ থেকে ১৮-১০-২০১২ তারিখ পর্যন্ত
অনুষ্ঠিতব্য ৩৩ তম বিসিএসের আবশ্যিক ও পদ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের লিখিত
পরীক্ষাসমূহ অনিবার্য কারণবশতঃ সরকারি কর্মকমিশন কর্তৃক স্থগিত ঘোষণা করা
হয়েছে। স্থগিত ঘোষিত উক্ত বিষয় সমূহের পরবর্তী পরীক্ষার তারিখ যথাসময়ে
পত্রিকার মাধ্যমে জানানো হবে। ৩০-১০-২০১২ তারিখ থেকে ১৪-১১-২০১২ তারিখ
পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য অন্যান্য পদ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পরীক্ষা যথারীতি ঘোষিত
পরীক্ষার সূচী অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।’’
পরে যোগাযোগ করা হলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবরের ব্যাপারে তিনি বলেন,
“বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি তৈরি
হয়েছে। তাই আমরা পরীক্ষা স্থগিত করলাম। পরবর্তীতে তারিখ জানাবো।”
চার হাজার ২০৬টি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য এ বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি ৩৩তম
বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। গত ১ জুন প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
হয়। পৌনে দুই লাখের বেশি পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেন। গত ২৮ জুন
প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। আগামী ৭ অক্টোবর থেকে ১৭
অক্টোবর পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।
২৮ হাজার ১৬২ জন পরীক্ষার্থী এতে অংশ নেবেন। মোট ২৬টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানিয়েছেন,
প্রশ্নপত্র পাওয়ার আশায় বেশ কয়েকজনই টাকা দিয়েছেন। ওই পরীক্ষার্থীদের
অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, বিষয়টি অতি গোপনীয়। অন্য কাউকে
যেন জানানো না হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই গুজবের কারণে ঠিকমতো লেখাপড়া করতে
পারছেন না বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন প্রার্থী।
No comments:
Post a Comment