Pages

Sunday, October 21, 2012

আদালতে জনগণের আস্থা বাড়াতে সংস্কার দরকার: আইনমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

আদালতে জনগণের আস্থা বাড়াতে সংস্কার দরকার: আইনমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
 আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেছেন, “দেশে প্রচলিত পুরনো ও সনাতন বিচার পদ্ধতিতে মামলা নিষ্পত্তিতে অনেক সময় লাগে। বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে আদালতে মামলাজটের সৃষ্টি হচ্ছে। সারাদেশের আদালতসমূহে বর্তমানে ২২ লাখ মামলা বিচারাধীন।

তিনি বলেন, “মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা হলে জনগণ হতাশাগ্রস্ত হয় এবং বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়। ফলে জনগণ আদালতমুখী হতে চায় না। বিচার বিভাগের ওপর জনগণের আস্থা বাড়াতে সনাতন বিচার পদ্ধতির সংস্কার প্রয়োজন।”

বর্তমান সরকার এক্ষেত্রে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আইনমন্ত্রী শনিবার ঢাকায় হোটেল রেডিসনে ইউএনডিপি’র অর্থায়নে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়াধীন আইন ও বিচার বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িতব্য জাস্টিস সেক্টর ফ্যাসিলিটি (জেএসএফ) প্রকল্পের প্রারম্ভিক কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসবকথা বলেন।

বাংলাদেশে বিচারিক ব্যবস্থায় সুবিচার নিশ্চিতকরণের পথে মূল অন্তরায়সমূহ এবং সেগুলোর কার্যকর সমাধান চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রে যোগাযোগ, সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নীতি নির্ধারক,  সরকারি কর্মকর্তা, বিচারপতি, আইনজীবী এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহের মতামত গ্রহণের উদ্দেশ্যে কর্মশালাটির আয়োজন করা হয়।

আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এটর্নি জেনারেল কার্যালয়, সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এবং বিচার বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৫০ জন প্রতিনিধি কর্মশালায় অংশ নেন।

উল্লেখ্য, জেএসএফ প্রকল্পটি প্রাথমিকভাবে তিন বছরব্যাপী নেয়া। এ প্রকল্পটি জাতীয় উন্নয়ন কর্মকৌশল এবং ক্ষেত্রভিত্তিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা নির্ধারণে সাহায্য করবে যা বিচারিক  ক্ষেত্রে কৌশলগত অগ্রাধিকারসমূহ আলোচনা এবং জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টি করবে।

জেএসএফ প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এ এস এস এম জহিরুল হকের সভাপতিত্বে কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ইউএনডিপি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টেফান প্রিজনার প্রকল্পের চিফ টেকনিক্যাল এডভাইজার ক্রিস্টিয়ান এলডন এবং আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্মসচিব সৈয়দ আমিনুল ইসলাম বক্তৃতা করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারের দীর্ঘসূত্রতা থেকে বিচারপ্রার্থী জনগণকে মুক্তি দিতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি  ব্যবস্থা বা এডিআর বাধ্যতামূলক করে এবং মামলা নিষ্পত্তির প্রতিটি স্তরে সময় নির্ধারণ করে দিয়ে দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধন করা হয়েছে। পুরনোফৌজদারি কার্যবিধিতেও মামলা নিষ্পত্তিতে অনেক সময়ে লাগছে।

তদন্তে অধিক সময় ব্যয় এবং সঠিক সময়ে সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থতার কারণে ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা হচ্ছে। এজন্য সমন জারি, সাক্ষী হাজিরসহ মামলা নিষ্পত্তির প্রতিটি স্তরে সময় নির্ধারণ করে দিয়ে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমন জারি, সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থতায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রমের বিধান রেখে ফৌজদারি কার্যবিধি বিল উপস্থাপন ও তা পাশ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ফৌজদারি মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত সময়ে শেষ করার প্রতি দৃষ্টি দিতে তিনি পুলিশ বিভাগের প্রতি আহবান জানান।

মন্ত্রী বলেন, দেশের কারাগারগুলোতে কয়েদিদের শতকরা ৬০ থেকে ৭০ ভাগ হলো বিচারাধীন বন্দি। এসব বিচারাধীন বন্দির পেছনে সরকারের অনেক অর্থ ব্যয় হচ্ছে। মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হলে কারাগারে বিচারাধীন বন্দির সংখ্যা কমবে। সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধিতে ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তিতে এডিআর ব্যবস্থা অনুসরণের বিধান রাখা হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আইনের সুরক্ষা দিতে সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করতে আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠায় জনগণকে দ্রুত সুবিচার দিতে তিনি বিচারক ও আইনজীবীদের আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহবান জানান  তিনি।

No comments:

Post a Comment