Pages

Thursday, October 11, 2012

গোলাম রহমানের পদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

গোলাম রহমানের পদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
 দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)  চেয়ারম্যান গোলাম রহমানের নিজ পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ও বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম শিশির বুধবার বিকেলে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি দায়ের করেন। একইসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ১০(৩) ধারা কেন সংবিধান বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, আবেদনে এই মর্মে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে। রুল বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় চেয়ারম্যান হিসেবে গোলাম রহমানের কার্যক্রম পরিচালনার ওপর অন্তর্বর্তীকালিন নিষেধাজ্ঞাও চাওয়া হয়েছে। রিটে আইন সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিব, দুদকের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান ও দুদকের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আবেদনটি বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি কাজী ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন রিটকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন। আইনজীবী কামাল হোসেন বলেন, ‘পিয়ন -চাপরাশির বক্তব্যে বিচার চলে না’ এমন বক্তব্য দিয়ে দুদক চেয়ারম্যান তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন। এ বক্তব্যের ফলে দুদকের চেয়ারম্যান ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদ লংঘন করেছেন। তাই তিনি ওই পদে থাকতে পারেন না। এ বক্তব্য দিয়ে তিনি এক শ্রেণীর মানুষকে কটাক্ষ করেছেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আবুল হোসেন হলমার্কসহ বেশ কয়েকটি উদারহণ টেনে রিটকারীর আইনজীবী বলেন, “যখনই বড় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তখনই দুদক চেয়ারম্যান তাদের পক্ষে সাফাই গেয়ে দুর্নীতিবাজদের পার পাওয়ার সুযোগ করে দেন।” তিনি বলেন, সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে রয়েছে, ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয়লাভের অধিকারী।’ উল্লেখ্য, গত ৯ এপ্রিল রাতে তৎকালিন রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিতের ব্যক্তিগত সহকারী ওমর ফারুকের গাড়িতে বিপুল অর্থ পাওয়ার যায়। এরপর ১৬ এপ্রিল ‘অর্থ কেলেঙ্কারির’ দায় নিজের কাঁধে নিয়ে রেলমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান সুরঞ্জিত। ওই ঘটনার পর থেকে ফারুকের গাড়িচালক আজম খানের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এমনকি দুদক ও রেল কর্তৃপক্ষ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়ার পরও আজম হাজির হননি। ছয় মাস ‘নিখোঁজ’ থাকার পর গত ৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির একটি প্রতিবেদনে হাজির হন চালক আজম। ওই প্রতিবেদনে আজম দাবি করেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সাবেক এপিএস ওমর ফারুক পিলখানায় যে অর্থসহ আটক হয়েছিলেন তার উৎস ছিল রেলের ‘নিয়োগ বাণিজ্য’। ওই টাকা সুরঞ্জিতের বাড়িতে পৌঁছানোর সময়ই ফারুক ‘আটক হন’। এ প্রতিবেদন প্রচারিত হওয়ার পর ৭ অক্টোবর রোববার কমিশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুদকের যাবতীয় অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম সাক্ষ্য আইনের আওতায় হয়ে থাকে। যেসব সাক্ষ্য-প্রমাণ সাক্ষ্য আইন বহির্ভূত বা আদালতে প্রহণযোগ্য নয়, তা দুদকেও গ্রহণযোগ্য নয়। টেলিভিশনে প্রচারিত ওই ব্যক্তির বক্তব্য সাক্ষ্য আইনের আওতায় পড়ে না।’ তিনি বলেন, “মিডিয়াতে অনেক খবরই আসে, সবই কি আদালতে গ্রহণযোগ্য? মুখের কথায় যদি সব হতো তাহলে ড্রাইভার, চাপরাশির কথায় দেশের সব চলতো।”

No comments:

Post a Comment