Pages

Friday, October 12, 2012

ডেসটিনির চেয়ারম্যান ও এমডি কারাগারে :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

ডেসটিনির চেয়ারম্যান ও এমডি কারাগারে :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
 মুদ্রা পাচারের দুই মামলায়  ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীন ও ডেসটিনি ২০০০-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ দায়রা জজ আদালতে শুনানি শেষে বিচারক মো. জহুরুল হক এ আদেশ দেন ।

ডেসটিনির শীর্ষ ওই তিন কর্মকর্তা সকাল ১০টার দিকে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে এগারটা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ওই আবেদনের ওপর শুনানি হয়। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী কাজী নজিবুল্লা হীরু এবং এহসানুল হক সমাজী তাদের জামিন আবেদনে বলেন, “চেয়ারম্যান সাবেক সেনাপ্রধান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমাজের সম্মানিত ব্যবসায়ী।

ডেসটিনির মাল্টিপারপাস ও ট্রি প্লান্টেশন কোম্পানি কোনো প্রকারের সমবায় আইন লঙ্ঘন করেনি উল্লেখ করে তারা বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তারা আত্মসমর্পণ করেছেন, তাদের জামিন দেয়া হোক।

আইনজীবী সমাজী বলেন, “যদি আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করেন তবে সবার কাছে প্রমাণিত হবে তারা দোষী। কিন্তু উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত আছে, সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্তভাবে রায় হওয়ার আগে কাউকে দোষী বলা যাবে না।”

ডেসটিনির ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকায় ৫৬ লাখ পরিবার না খেয়ে আছে উল্লেখ করে আইনজীবী হিরু বলেন, “ডেসটিনির কোনো গ্রাহক কী দুদককে বলেছে ‘তারা প্রতারিত হয়েছে? তবে কেন এবং কার ইশারায় লাখ লাখ লোককে না খেয়ে রাখা হচ্ছে’এমন প্রশ্ন তুলে হীরু বলেন, “অবশ্যই এর পেছনে কেউ একজন খেলছে। তারা কিসের স্বার্থ, কাদের স্বার্থে ডেসটিনিকে হয়রানি করছে?”

হীরুর বক্তব্যের জবাবে দুদকের প্রধান আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, “আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিকে সরাসারি অভিযোগ করতে হয় না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আমলযোগ্য অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা। ডেসটিনির হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। সাড়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৫৩৩টি ব্যাংক একাউন্টে টাকা আছে মাত্র ১৩ কোটি।”

মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আহবান জানিয়ে কাজল বলেন, “অভিনব কায়দায় জনগণকে প্রতারিত করে ডেসিটনির এসব কর্মকর্তারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। বাদী-বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শোনার পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেম দেন আদালত।

এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ডেসটিনির বিরুদ্ধে মুদ্রা পাচারের দু’টি মামলায় জামিন বাতিলের আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। যার ফলে ডেসটিনির ২২ কর্মকর্তার জামিন বাতিল হয়ে যায়। এরপর থেকে তারা পলাতক ছিলেন।

গত ৬ আগস্ট মহানগর হাকিমের আদালতে আত্মসমর্পন করে ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমিনসহ ছয়জন জামিন নেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে গত ১৩ আগস্ট দুদকের পক্ষ থেকে ডেসটিনির শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তার জামিনের আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য (রিভিশন) ঢাকার বিশেষ জ্যেষ্ঠ জজ আদালতে আবেদন করা হয়।

১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার বিশেষ জ্যেষ্ঠ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ড. আখতারুজ্জামান রিভিশন আবেদন গ্রহণ করে নিম্ন আদালতের আদেশ বাতিল করেন।

গত ১৩ আগস্ট আসামিপক্ষ ভারপ্রাপ্ত বিচারকের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জহুরুল হকের কাছে আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানান। আদালত ওই আবেদন গ্রহণ করায় ভারপ্রাপ্ত বিচারকের আদেশ বাতিল হয়ে যায়। এরপর বিচারক শুনানির জন্য ২০ সেপ্টেম্বর ধার্য করেন। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করেন।

দুদকের উপ-পরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার ও সহকারী পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেশন (এমএলএম) ও ট্রি-প্ল্যানটেশন প্রকল্পের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ স্থানান্তরের প্রমাণ পেয়ে দু’টি মামলা দায়ের করেন।

সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে গত ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় ডেসটিনির ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দু’টি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

No comments:

Post a Comment