সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিসিঞ্জার বলেছেন, এটা বলতে দ্বিধা নেই যে, আগামী ১০ বছর পর ইসরাইল নামে আর কিছু থাকবে না।
এ সম্পর্কে মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার কেভিন ব্যারেট এক প্রবন্ধে বলেছেন,
“কিসিঞ্জারের এ মন্তব্য সোজাসাপ্টা ও নিষ্ঠুর। তিনি বলছেন না যে, ইসরাইল
বিপদের মধ্যে আছে, তবে এটা বলছেন যে, তাকে রক্ষা করা সম্ভব হতো আরো কয়েক
ট্রিলিয়ন ডলার সহায়তা দিলে এবং আমাদের সামরিক বাহিনী দিয়ে এর শত্রুদেরকে
গুঁড়িয়ে দিলে।”
কেভিন ব্যারেট আরো লিখেছেন, “তিনি সমাধানের কোনো উপায় বলছেন না বরং তিনি শধু বলছেন: আগামী ২০২২ সালের পর ইসরাইল আর টিকে থাকবে না।”
ব্যারেটের এ প্রবন্ধ ইরানের ইংরেজি ভাষার নিউজ চ্যানেল প্রেস টিভির
ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। মার্কিন ১৬টি গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত
স্টাডি কমিশনের তৈরি করা প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তিনিও কিসিঞ্জারের
বক্তব্যকে সমর্থন করেন। ‘প্রিপেয়ারিং ফর এ পোস্ট-ইসরাইল মিডল ইস্ট’ নামে
গোয়েন্দা কমিশনের এ প্রতিবেদন চলতি বছরের প্রথম দিকে প্রণয়ন করা হয়েছে।
ব্যারেট বলেন, আরব অঞ্চলে ইসলোমি জাগরণের ফলে ফিলিস্তিনিদের আত্মাহুতি এবং
ইসলামি ইরানের জেগে ওঠার ফলে ভবিষ্যত দিনগুলোতে ইসরাইল টিকতে পারবে না।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- একশ' কোটির বেশি
মানুষের মতামতকে উপেক্ষা করে ইসরাইলকে অব্যাহত সমর্থন দেয়ার মতো সামরিক ও
অর্থনৈতিক শক্তি আমেরিকার নেই। এর বিপরীতে মার্কিন সরকারকে তার নিজ স্বার্থ
দেখতে হবে এবং ইসরাইলের লাগাম টেনে ধরা উচিত।
যেসব কারণে ইসরাইলের পতন হবে তার মধ্যে আমেরিকায় বসবাসকারী ইহুদিদের
মধ্যে ইসরাইল ইস্যুতে দিন দিন বেড়ে চলা অনৈক্য, ১/১১'র ঘটনায় ইসরাইল
জড়িত বলে মানুষের মাঝে ধারণা বদ্ধমূল হওয়া এবং ইসরাইলের গোড়াবাদী নীতির
প্রতি মার্কিন জনগণের বিরূপ ধারণা উল্লেখযোগ্য বলে ব্যারেট তার প্রবন্ধে
উল্লেখ করেছেন।
প্রবন্ধের শেষ দিকে তিনি বলেছেন, মার্কিন নীতি-নির্ধারকদের জন্য সহজ পথ
হচ্ছে কিসিঞ্জারের বক্তব্য মেনে নেয়া- ‘ইসরাইল তার আয়ুর শেষ পর্যায়ে
পৌঁছেছে।’ সূত্র: আইআরআইবি

No comments:
Post a Comment