নিউজপেপার রিভিউ সপ্তাহ শুরুর দিন অর্থাৎ গত বুধবার ২৬ সেপ্টেম্বর একটি
পরকীয়ার খবর ছাপিয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে যায় ইত্তেফাক। এই কথিত পরকীয়ার
পাত্রপাত্রী গ্ল্যামার জগতের কেউ নন, ফলে খবরটি সহজেই ইত্তেফাকে দ্বিতীয়
শীর্ষ সংবাদের স্থান দখল করে। সংবাদটির শিরোনাম: ‘হিনা-বিলাওয়াল প্রেমের
গুজবে জারদারির সিংহাসনে কাঁপন!’ হিনা অর্থাৎ হিনা রব্বানী খার হচ্ছেন
পাকিস্তানের অপেক্ষাকৃত কমবয়সী, সুন্দরী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর বিলাওয়াল
হচ্ছেন সেদেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ও সাবেক
প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেনজির ভুট্টোর জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং একই সঙ্গে শাসকদল
পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান। অসমবয়সী দুই রাজনীতিকের এই
কথিত প্রেমের খবরটি স্বভাবতই পাঠকের তীব্র কৌতূহলের বিষয় হতে পারে- বিষয়টি
যথার্থভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছে ইত্তেফাক এবং পপুলার কাভারেজ দিয়েছে। অন্য
পত্রিকাগুলো এক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে।
সপ্তাহশেষে এই কথিত পরকীয়ার কেচ্ছা মিইয়ে আসে। তবে উল্লেখযোগ্য হলো, এই
কেচ্ছাটির সাথে বাংলাদেশের ‘ব্লিৎস’ নামের একটি অদৃশ্য সাময়িকীর নাম উঠে
এসেছে বার বার। তারাই এই ‘খবর’টি সর্বপ্রথম ফাঁস করে।
একই দিন ইত্তেফাকের প্রথম পৃষ্ঠায় ডাবল কলাম বক্স করে ছাপানো “ধনাঢ্য
‘ভালোমানুষটি’ যখন ডাকাত!” শীর্ষক সংবাদটিও ছিল শিউরে ওঠার মতো। আবদুল ওহাব
নামে ঢাকার ধামরাই উপজেলার এই ব্যক্তি কোটিপতি ব্যবসায়ী। এলাকার সবচাইতে
বড় চাতালের মালিক। যখন যেই দল ক্ষমতায় যায় সেই দলের নেতা বনে যায় সে। পুলিশ
পর্যন্ত সমীহ করে তাকে। অথচ তলে তলে সে একজন ডাকাত! আমাদের সমাজ কতটা পচে
গেলে গেছে, পিনাকি দাসগুপ্তের এই রিপোর্টটি তারই একটি জ্বলন্ত প্রমাণ হয়ে
থাকলো।
পচাগলা সমাজের আরো একই নমুনা মেলে ওই দিনেরই আমার দেশ-এর শীর্ষ সংবাদে।
আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান হাই কোর্টের বিচারপতি
শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের বিরুদ্ধে ২৯টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও
সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মানি
লন্ডারিং বা অর্থ পাচার, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় আইন ভঙ্গ, সম্পদের হিসাব
গোপন করতে মিথ্যা তথ্য প্রদান, বিচারপতিদের আচরণবিধি ভঙ্গ ইত্যাদি। একজন
বিচারপতির বিরুদ্ধেই যদি এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তাহলে সমাজের কী
অবস্থা, তা কি আর খুলে বলার অপেক্ষা রাখে? কিন্তু সমাজ না হয় পচে গেছে,
মিডিয়ার কী হাল! প্রথম আলো, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ প্রভৃতি প্রথম সারির
দৈনিক কেন খবরটিকে গুরুত্ব দিল না?- এ প্রশ্ন পাঠক করতেই পারে।
২৭ সেপ্টেম্বরের পত্রপত্রিকা আসে একটি দুঃসংবাদ নিয়ে- বিবিসিখ্যাত বরেণ্য
সাংবাদিক আতাউস সামাদ আর নেই। সব পত্রিকা প্রথম পৃষ্ঠায় খবরটি ছাপায়, তবে
সিঙ্গল কলামে। শুধু আমার দেশ দ্বিতীয় শীর্ষ সংবাদ হিসাবে তিন কলাম বক্স করে
খবরটিকে। এদিন সৈয়দ আবদাল আহমদের রিপোর্ট ‘আতাউস সামাদের শেষ উক্তি: আমি
একজন সুখী মানুষ...’ ছিল ব্যতিক্রমী ও মর্মস্পর্শী।
এছাড়া ওই দিন সব পত্রিকার শীর্ষ সংবাদ ছিল পদ্মা সেতু বিতর্ক। বোঝাই
যাচ্ছিল, পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নে বিশ্বব্যাংক ‘ফিরে আসছে’ বলা হলেও
বিষয়টি এতো সোজা নয়, বরং বড়ই জটপাকানো। যেমন জটপাকানো হলমার্ক-সোনালী
ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারিও। এদিন পত্রপত্রিকায় সোনালী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের
কয়েকজন সাবেক সদস্যের দুদকে দেয়া বক্তব্য ছাপা হয়। তারা দুদককে সাফ বলে
দিয়েছেন, সব দোষ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের। আগের দিন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলেছে,
হলমার্কের বিরুদ্ধে মামলা করবে না সোনালী ব্যাংক। মামলা করতে হলে করবে
দুদক।
২৭ সেপ্টেম্বর ইত্তেফাকে জামিউল আহসান সিপু রিপোর্ট করেছেন ‘সপ্তাহের
ছুটির দিনেই হত্যাযজ্ঞ’। এই রিপোর্টে জানা যায়, ঢাকায় সিরিয়াল কিলারের
আবির্ভাব ঘটেছে। তার হাতেই খুনের শিকার হচ্ছে পুলিশের সোর্স, ডিশ লাইনের
কর্মচারি অথবা নিম্ন আয়ের অন্য কোনো মানুষ। এক্ষেত্রে সন্দেহভাজন হিসাবে
নাম উঠে এসেছে জনৈক সালাউদ্দিনের। যাত্রাবাড়ি থানার ওসি বলেছেন,
‘সালাউদ্দিন থানার তালিকার এক নম্বর সন্ত্রাসী’। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো,
এক নম্বর সন্ত্রাসীটির কোনো ছবিই নাকি যাত্রাবাড়ি থানায় নেই। অথচ ওসি
বলেছেন, ‘সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার করতে সোর্স লাগানো হয়েছে’।
২৮ সেপ্টেম্বর ইত্তেফাক শীর্ষ সংবাদ করে ‘আন্দোলনের প্রস্তুতি থাকলেও
সমঝোতায় আগ্রহী ১৮ দল’। রিপোর্টের উপশিরোনাম ‘ফের ওয়ান-ইলেভেন চায় না কেউ,
আওয়ামী লীগের প্রস্তাবের অপেক্ষায় বিএনপি’। রিপোর্টটি করেছেন শামছুদ্দীন
আহমেদ। একই দিন বিপরীত বক্তব্য পাওয়া যায় কালের কণ্ঠের এক রিপোর্টে।
মোশাররফ বাবলুর করা ওই রিপোর্টের শিরোনাম ‘আন্দোলনেই জোর দিচ্ছে বিএনপি’।
অবশ্য বিএনপি নেতারা সমঝোতা ও সংলাপের চিন্তাও মাথায় রেখেছেন, সেকথাও বলা
হয় রিপোর্টে।
একই দিন আমার দেশ-এ কাদের গনি চৌধুরীর রিপোর্ট ‘সরকারের শেষ বছরে
রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বিক্রির হিড়িক’ ছিল উদ্বেগজনক। এতে বলা হয়, পানির দামে
এসব সম্পত্তি তুলে দেয়া হচ্ছে সরকারি দলের নেতা ও ব্যবসায়ীদের হাতে।
রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বিক্রিতে এগিয়ে আছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।
ওই দিন বিভিন্ন পত্রিকায় চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের দুই
পক্ষের হানাহানির খবর ও ছবি ছাপায় বিভিন্ন পত্রিকা। এক্ষেত্রে সবচাইতে
ভালো কাভারেজটি ছিল প্রথম আলোর। তারা পাঁচ কলাম ছবি ও দুই কলাম খবর ছাড়াও
এর নেপথ্য কাহিনী ছাপায় সিঙ্গল কলামে। ‘নেপথ্যে নৌ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ’
শীর্ষক রিপোর্টটি করেছেন চট্টগ্রাম থেকে মাসুদ মিলাদ।
২৯ সেপ্টেম্বর আমার দেশ শীর্ষ সংবাদ করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে। শিরোনাম: ‘বিশ্বব্যাংকের সংস্কার
চাইলেন শেখ হাসিনা’। নিঃসন্দেহে সাহসী চাওয়া। কিন্তু এধরনের সাহসী
বক্তব্যকে প্রথম আলো ও কালের কণ্ঠ সিঙ্গল কলামে ছাপালো কেন, সে প্রশ্ন পাঠক
করতেই পারে। একই খবরের সাথে পার্শ্বসংবাদ হিসেবে আরেকটি খবর
‘প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত আসনে বসে ভাষণ শুনলেন জয়’ দিয়েছে আমার দেশ। তারা
প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসে থাকা তার পুত্রের ছবিও ছেপেছে। সরকারের কেউ
না-হয়েও সরকারপ্রধানের আসনে বসে পড়াও নিঃসন্দেহে সাহসী কাজ। আর সেই কাজের
খবর ও ছবি ছাপানোও কম দুঃসাহসের কাজ নয়। এজন্য ধন্যবাদ পেতে পারে আমার দেশ।
আগের দিন চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের মহিউদ্দিন ও লতিফ গ্রুপের ছবি ছাপিয়েছিল
সব পত্রিকা। পরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর ফলোআপে বাজিমাত করে কালের কণ্ঠ। তারা ২০১০
সালের ১৩ জুন মহিউদ্দিন-লতিফ আলিঙ্গন ও চুম্বন এবং আগের দিনের হানাহানির
ছবি পাশাপাশি ছাপায়। সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে রফিকুল বাহারের তিন কলাম রিপোর্ট
‘ওর মাথায় সিট আছে: মহিউদ্দিন, তার আসল রূপ বেরিয়েছে: লতিফ’ ভালো ফলোআপ,
তবে শিরোনামে ‘সিট’ শব্দটি দেখে পাঠক মজা পেয়ে প্রশ্ন করতে পারেন, মাথায়
‘ছিট’ থাকে, ‘সিট’ (আসন) এলো কোত্থেকে?
একই দিন ইত্তেফাকের শীর্ষ সংবাদে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল
আহমদের বক্তব্যটি পড়েও ‘মজা’ পেতে পারেন পাঠক। তোফায়েল আহমদ বলেছেন ‘আফসার
বিএনপিরই এজেন্ট’। উল্লেখ্য, এই আফসার হচ্ছেন আওয়ামী লীগেরই মরহুম নেতা,
মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের
ভাই। তাকেই যদি বিএনপি ‘এজেন্ট’ বানিয়ে ফেলতে পারে, তাহলে তো বলতে হয়,
রাজনীতির খেলায় আওয়ামী লীগকে পেছনে ফেলে বিএনপি অনেক এগিয়ে গেছে।
একই দিন ইত্তেফাক-এর দ্বিতীয় শীর্ষ সংবাদ ‘কমে যাচ্ছে নদীনির্ভর জীবিকা’ ছিল সুন্দর। রিপোর্টটি করেছেন রফিকুল বাসার ও লিটন বাশার।
এ দিন সবচাইতে তাৎপর্যপূর্ণ রিপোর্টটি ছিল নয়া দিগন্তে। আশরাফুল ইসলামের
করা রিপোর্টটির শিরোনাম ‘নিজের কূপ উচ্চমূল্যে গ্যাজপ্রমকে দিয়ে অন্যের
কাজে ব্যস্ত বাপেক্স’। এতে বলা হয়, নিজেদের পাঁচটি গ্যাসকূপ খননের কাজ
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রমকে ছেড়ে দিয়ে ‘ঠিকাদারিতে’ ব্যস্ত
হয়ে পড়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স। এ পাঁচ কূপ খননের জন্য রুশ
প্রতিষ্ঠানটিকে বাপেক্সের দিতে হবে ৮০০ কোটি টাকা। জমি অধিগ্রহণ, রাস্তাঘাট
নির্মাণ ইত্যাদিতে ব্যয় হবে আরো ২০০ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে ব্যয় ১০০০ কোটি
টাকা। একই সময়ে অন্যের কূপ খনন করে বাপেক্সের আয় হবে ২০০ কোটি টাকা।
৩০ সেপ্টেম্বর আরো একজন বিশিষ্ট সাংবাদিকের মৃত্যুসংবাদ ছাপা হয়
পত্রপত্রিকায়। তিনি ফাজলে রশীদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি। দীর্ঘ
দিন যাবৎ নিউ ইয়র্ক প্রবাসী ছিলেন তিনি। নিউ এজ, আমার দেশ ও নয়া দিগন্ত তার
ইন্তেকালের খবরটি প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপলেও ‘শীর্ষস্থানীয়’ কয়েকটি পত্রিকা
ছেপেছে ভেতরের পাতায়; হেলাফেলা করে। এ কী অসচেতনতা নাকি অজ্ঞতা- কে বলবে?
০১ অক্টোবরের সংবাদপত্রগুলো আসে একটি বড় দুঃসংবাদ নিয়ে। ইত্তেফাক লিখেছে,
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় উত্তম কুমার বড়ুয়া নামে এক যুবক তার ফেসবুক
অ্যাকাউন্টে পবিত্র কোরআনের অবমাননাকর ১৭টি ছবি পোস্ট করলে উত্তেজনার
সূত্রপাত হয়। একটি পোস্টে নিজের ছবি ও মোবাইল ফোন নম্বরও দেয় উত্তম। বিষয়টি
নজরে এলে স্থানীয় কয়েকজন যুবক উত্তমকে ফোন করেন। জবাবে উত্তম অশ্রাব্য
ভাষায় গালিগালাজ করে। এদিকে মোবাইল ফোনে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা
রামু উপজেলা সদরে সমবেত হতে থাকে এবং এর পরবর্তী ঘটনাগুলো (বৌদ্ধপল্লীতে
হামলা, বৌদ্ধবিহারে আগুন ইত্যাদি) ঘটতে থাকে।
বিভিন্ন পত্রিকা খবরটিকে শীর্ষ সংবাদ করলেও এর সূত্রপাতের কারণটি সবাচইতে
স্পষ্ট ও বিস্তারিতভাবে লিখতে পেরেছে ইত্তেফাক। অন্য পত্রিকাগুলো
এক-দু’লাইনে কারণ বর্ণনা করে দায় সেরেছে। কালের কণ্ঠের রিপোর্টটি ছিল এদিক
থেকে সবচাইতে অসম্পূর্ণ। ঘটনার জন্য দায়ী উত্তমের ছবি ছেপেছে নয়া দিগন্ত।
আমার দেশ-এর শিরোনাম ‘বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা’
ছিল যথার্থ। ইত্তেফাক-এর আরেকটি শিরোনাম ছিল উল্লেখযোগ্য- ‘হামলায় বিএনপি
এমপি জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’। পরদিন অর্থাৎ আজ
মঙ্গলবার প্রথম আলোর শীর্ষ সংবাদের শিরোনাম: ‘বৌদ্ধপল্লীতে হামলা: সন্দেহে
রোহিঙ্গাজঙ্গিরা’। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন দাবি করছেন বিএনপি এমপি জড়িত
থাকার প্রমাণ তার কাছে আছে এবং প্রথম আলো যখন সন্দেহের তীর ছুঁড়ছে
‘রোহিঙ্গা জঙ্গিদের’ দিকে, ঠিক তখনই একটি ছবি ছেপে টেক্কা দিয়েছে আমার দেশ।
আজ ০২ সেপ্টেম্বর প্রথম পৃষ্ঠায় দুই কলামে ছাপা ছবিটির ক্যাপশনে (ছবি
পরিচিতি) বলা হয়: ‘২৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টায় এই মিছিলটি বের করেন আওয়ামী
মৎস্যজীবী লীগের রামু উপজেলা সভাপতি আনছারুল হক ভূট্টো। পরে ওই মিছিলই হয়ে
ওঠে সহিংসতার কারণ। মিছিলটির শুরুতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা ছাত্রলীগের নেতা
সাদ্দাম হোসেন (বাঁ থেকে চতুর্থ, গেঞ্জি পরা), তার বাঁ পাশে যুবলীগ নেতার
ভাই হাফেজ মুহাম্মদ (কালো পাঞ্জাবি)। ওই সমাবেশ থেকে হরতালের মতো কর্মসূচিও
ঘোষণা দেয়া হয়েছিল’।
০১ সেপ্টেম্বর কাপাসিয়া উপনির্বাচনের ফলও ছাপায় বিভিন্ন পত্রিকা। এতে জয়ী
হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সিমিন হোসেন রিমি। সব পত্রিকা রিমি অথবা আওয়ামী
লীগ প্রার্থী জয়ী শিরোনাম করলেও প্রথম আলো লিখেছে, ‘তাজউদ্দীন-কন্যার
বিজয়’। ‘ভোটারবিহীন নির্বাচন’ শব্দ ব্যবহার করেছে কালের কণ্ঠ ও আমার দেশ।
কালের কণ্ঠের শিরোনাম ‘ভোটারবিহীন নির্বাচনে রিমির জয়, চাচার
প্রত্যাখ্যান’ এবং আমার দেশ শিরোনাম দিয়েছে ‘ভোটারবিহীন তামাশার নির্বাচন,
প্রথম পরীক্ষায় ইসি ফেল’। প্রথম আলো ‘ভোটারবিহীন’ শব্দটি ব্যবহার না করলেও
সিঙ্গল কলামে রিপোর্ট করেছে ‘ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার যত কারণ’।

No comments:
Post a Comment