Pages

Tuesday, October 9, 2012

রামুর ঘটনায় স্থানীয় এমপির উস্কানিকে দায়ী করলেন প্রধানমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

রামুর ঘটনায় স্থানীয় এমপির উস্কানিকে দায়ী করলেন প্রধানমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
 কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধবিহার জ্বালিয়ে দেয়া এবং ভাঙচুরের ঘটনায় প্রধান বিরোধী দল বিএপির স্থানীয় সংসদ সদস্য লুতফুর রহমানের উস্কানিকে দায়ী করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, “গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে রামুতে হামলার আগে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন সেখানকার উত্তেজিত মানুষকে শান্ত করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু সেই সময় বিএনপির স্থানীয় এমপি গিয়ে সেখানে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তারপর হাজার হাজার মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে মন্দিরে আগুন দেয়।”

 সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের রামু উপজেলার কিজারী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জনসভাস্থলে বক্তব্য দেয়ার সময় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বৌদ্ধবিহারে হামলার ঘটনায় আমি মর্মাহত ও হতাশ। বাংলাদেশে এর আগে এ রকম জঘন্যতম ঘটনা ঘটেনি। আন্তর্জাতিকভাবে দেশের সম্মান ক্ষুণ্ন করতেই এই হামলা হয়েছে।”


শেখ হাসিনা জানান, হামলার ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের কাউকে রেহাই দেয়া হবে না। জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তি দেয়া হবে।

পুড়ে যাওয়া ১২টি বৌদ্ধবিহারের সংস্কার সরকারি অর্থে করা হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, “বৌদ্ধবিহারগুলোর সংস্কারের জন্য যা যা করা দরকার, সরকারের পক্ষ থেকে তা করা হবে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ভাণ্ডার থেকে এক কোটি ৩৪ লাখ আর বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে দুই কোটি ৪৮ লাখ নগদ টাকা (মোট তিন কোটি ৮২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা ) ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের দেয়া হবে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের গৃহনির্মাণের জন্য ৩০৭ বান টিন, ৩৫.৬২ মেট্রিক টন চাল, ২৪৬টি কম্বল, ১০৭ বান্ডিল কাপড়চোপড় ও স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ২৯ সেট বই দেবে সরকার।”

জনসভাস্থল থেকে পুড়ে যাওয়া বৌদ্ধবিহার ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বাড়িতে গিয়ে ত্রাণ দেন শেখ হাসিনা। এরপর তিনি কক্সবাজারে যাবেন। সেখানে সরকারি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন।

জনসভায় আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, বীর বাহাদুর এমপি, তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার প্রমুখ। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ কে আহম্মেদ হোসেন।

এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারে পৌঁছান। সেখান থেকে তিনি রামুতে যান।

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে পবিত্র কোরআন শরিফের অবমাননাকর একটি ছবি প্রকাশের জের ধরে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রামু উপজেলায় বিক্ষুব্ধ জনতা ১০টি বৌদ্ধমন্দিরে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এছাড়া ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

No comments:

Post a Comment