গাজীপুর ৪ (কাপাসিয়া) আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সিমিন হোসেন রিমি বিজয়ী হয়েছেন। রোববার সারাদিন ভোটগ্রহণ শেষে সব ভোট কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেছেন সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান। তবে সোমবার বেলা ১০টায় গাজীপুর জেলা প্রশাসনের ভাওয়াল সম্মেলনকক্ষ থেকে বেসরকারি ফল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রধান বিরোধী দল বিএনপির বয়কটের মুখে এ
উপনির্বাচনে অর্ধেকের বেশি ভোটারই এ ভোট দেননি। এ আসনে ১১ টি ইউনিয়নে মোট
কেন্দ্রের সংখ্যা ১০২টি, আর এখানে মোট ভোটারের সংখ্যা দুই লাখ ১১ হাজার ৮৮৪
জন।
আর এ নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ৯১ হাজার ৭৯৬। এর মধ্যে বৈধ ভোট ৯১ হাজার ১৭৮, ভোট বাতিল হয়েছে ৬১৮টি।
এ হিসেবে ৪৩ দশমিক ৩০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানান সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা।
আওয়ামী
লীগ প্রার্থী সিমিন হোসেন রিমি পেয়েছেন ৬৩,৪০১ ভোট, তার নিকটতম
প্রতিদ্বন্দ্বি হয়েছেন তার চাচা স্বতন্ত্র প্রার্থী আফসার উদ্দিন খান
২৬,৩৪৯ ভোট পেয়ে এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি থেকে (সিপিবি) আসাদুল্লাহ বাদল পেয়েছেন ১৪২৮ ভোট।
চলতি বছরের ৭ জুন আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও রিমির ভাই তানজিম আহমদের (সোহেল তাজ) পদত্যাগের মধ্য দিয়ে আসনটি শূন্য হয়।
এদিকে সরকার সমর্থক প্রার্থীর পক্ষ থেকে ভয়-ভীতি দেখানোর কারণেই
ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কম বলে মন্তব্য করেছেন স্বতন্ত্র
প্রার্থী আফসার উদ্দীন আহমদ খান। তবে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে বলে
দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সিমিন হোসেন রিমি। সকালে গাজীপুর-৪ আসনের
উপনির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তারা।
নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন দাবি করে আফসার উদ্দীন আহমদ বলেন, সরকার
সমর্থক প্রার্থীর পক্ষ থেকে ভয়-ভীতি দেখানোর কারণেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে
ভোটারদের উপস্থিতি কম। কয়েকটি কেন্দ্রে তার এজেন্টরা প্রবেশ করতে পারেনি
বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ নাকচ করে সিমিন হোসেন রিমি বলেছেন,
নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে।
এর আগে সকাল ৮টায় গাজীপুরের ১১টি ইউনিয়নের ১০২টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দরদরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র
প্রার্থী আফসারউদ্দীন ভোট দেন। আর একই ভোটকেন্দ্রে সকাল ৯টায় সিমিন হোসেন
রিমি ভোট দিয়েছেন।
নির্বাচনী এলাকার পরিবেশ সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মোট ৩ হাজার ৪৮২ জন সদস্য নিয়োজিত ছিলেন।
এর মধ্যে ১ হাজার ১৪৮ জন পুলিশ, ৪০৮ জন র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান
(র্যাব), ২০০ জন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ৩০৬ জন ব্যাটালিয়ন আনসার
এবং ১ হাজার ৪২৮ জন আনসার সদস্য।
কাপাসিয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ৮৮৪ জন। ১০২টি ভোটকেন্দ্রের ১৭২টি কক্ষে ভোট নেয়া হয়।
প্রতি কেন্দ্রে একজন করে মোট ১০২ জন প্রিজাইডিং অফিসার, প্রতিটি কক্ষে
একজন করে মোট ৪৭২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং প্রতিকক্ষে ২ জন করে মোট
৯৪৪ জন পোলিং অফিসার নিয়োগ করা হয়।
এছাড়া পুরো নির্বাচনী এলাকায় ৩২ জন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে ছিলেন। ১১টি
ইউনিয়নে ১১টি পুলিশের টহল দলে একজন করে ১১ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত ছিলেন।
একই সঙ্গে প্রতি ইউনিয়নে ১টি করে র্যাবের মোবাইল টিমও ছিল। আর প্রত্যেক
টিমে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।

No comments:
Post a Comment