মহাসড়কের পাশের রেস্তোরাঁর খাবারের দাম ও মান নিয়ন্ত্রণে সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে নাগরিক সংহতি নামের একটি বেসরকারি সংগঠন।
শুক্রবার শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক নাগরিক সমাবেশ থেকে এ দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সমাবেশ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফ সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বাপা’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, ড. আব্দুল হাই মজুমদার, সমাজকর্মী এ বি এম আনিছুজ্জামান, কৃষক নেতা জায়েদ ইকবাল খান, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের ইবনুল সাইদ রানা ও ক্যাবের সদস্য মোহাম্মাদ আলী হাজারী।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষকে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত করতে হয়। এর মধ্যে সড়ক ও নৌ-পথেই মানুষকে বেশি বিড়ম্বনরা শিকার হতে হয়। অদক্ষ চালক, ভাঙ্গা রাস্তা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অতিরিক্ত যাত্রী বহনের সঙ্গে দূরপাল্লার সড়কপথে যাত্রীদের মাঝ পথে খাবার গ্রহণে নতুন বিড়ম্বনা অতীতের সব সীমা অতিক্রান্ত হয়েছে।
নেতারা বলেন, যাত্রীদের এই বিড়ম্বনার সঙ্গে যুক্ত থাকে বাসের কিছু কর্মচারী। তারা তাদের ইচ্ছামত হোটেল বা রেস্তোরাঁয় নিয়ে বাসটি থামায়। এর বিনিময়ে তারা কমিশন পান। এর সঙ্গে দূরপাল্লার বাস মালিকরা কেউ এককভাবে অথবা সিন্ডিকেট করে যাত্রীদের একটি নির্দিষ্ট খাবার হোটেলের সামনে নামাতে বাস কর্মচারীদের সঙ্গে গোপনে আতাত করেন। এর ফলে আশপাশে অন্য কোনো দোকান বা খাবার ব্যবস্থা না থাকায় ওই হোটেলের খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছে। এ সব হোটেলের খাবারের মান যাচাই করার কোনো সুযোগ থাকছে না। একই সঙ্গে নেয়া হচ্ছে অস্বাভাবিক দাম।
তারা বলেন, জেলা শহরের প্রান্তসীমা বা গ্রামের মধ্যে গড়ে ওঠা এই সব রেস্তোরাঁর খাবারের দাম অনেক সময় রাজধানী বা বড় শহরের খাবারের দামকেও হার মানায়। আমরা মাঝে মধ্যে রাজধানী বা বিভাগীয় শহরে খাবারের মান নিয়ন্ত্রণে সরকারি তদারকি লক্ষ্য করি। কিন্তু মহাসড়কের পাশের এ সব রেস্তোরাঁয় কোনো তদারকির ব্যবস্থা নেই। ফলে তারা বেপরোয়াভাবে যাত্রীদের কাছ থেকে খাবারের দাম আদায় করে। মহাসড়কের পাশের এই সব রেস্তোরাঁগুলোর অবস্থান জেলা শহরের প্রান্তসীমায় বা থানা শহরের মহাসড়কগুলোর পাশে রেস্তোরাঁ বা খাবার হোটেলগুলো। এই সব রেস্তোরাঁ যাত্রীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিভিন্ন সাজে সজ্জিত করে কিছুটা আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা হয়। যার পেছনে থাকে অসৎ ব্যবসার উদ্দেশ্য। কিন্তু ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুসারে এ ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে কোনো পদক্ষেপ দেখা যায় না, যদিও ভোক্তার স্বার্থ দেখার জন্য পৌরসভা বা থানা পর্যায়ে সরকারি কর্মচারী থাকলেও তারা এ বিষয়ে মোটেও সক্রিয় নন। মহাসড়কের পাশের এ সব রেস্তোরাঁয় কোনো তদারকিই হয় না। ফলে এ গুলোর মালিকরা বেপরোয়াভাবে যাত্রীদের কাছ থেকে খাবারের দাম আদায় করে।
বক্তারা আরো বলেন, ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য হলো মুনাফা করা। কিন্তু অতিরিক্ত মুনাফা করা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। প্রচলিত আইনও এই স্বেচ্ছাচার সমর্থন করে না। আমাদের দেশে ভোক্তা স্বার্থ দেখার জন্য ২০০৯ সালের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি, ২০০৯ সালের ট্রেডমার্ক আইন রয়েছে। একইভাবে ১৯৫৭ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় পণ্যের দাম নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকারের হাতে যে ক্ষমতা রয়েছে তা অনুসরণ করে এই অতি মুনাফার প্রবণতা রোধ করা যায়।
সমাবেশ তারা আরো বলেন, ওই সব রেস্তোরাঁর বিভিন্ন খাবারের যে মূল্য রাখা হয় তা কোনোভাবেই দেশের অন্যান্য খাবার হোটেল বা রেস্তোরাঁর খাবারের মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ন নয়। দু-একটি খাবারের দাম থেকেই আমরা তা বুঝতে পারি। যেমন, ছোট এক বাটি সবজির দাম রাখা হয় ২৫ টাকা। যা দেশের অন্যান্য স্থানের খাবারের হোটেলে রাখা হয় ১০ টাকা। তারা অতিরিক্ত মুনাফা করে ১৫ টাকা। সেই হিসাবে মহাসড়কের পাশে একটি খাবার হেটেলে যদি বছরে ৫০ হাজার বাটি সবজি বিক্রি হয় তাহলে তারা অতিরিক্ত মুনাফা করছে সাত লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা। ঢাকা শহরের একটি ভালো হোটেলে ১০ টাকা দামে চা পাওয়া গেলেও সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, ফরিদপুর, ভৈরব বা কুমিল্লার একটি হোটেলে সেই চা বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকায়।
বক্তারা বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি এ সব হোটেলে এক কেজি গরুর মাংস কিনে রান্নার পর তা আট ভাগে ভাগ করে বিক্রি করা হয় এবং প্রতি ভাগের জন্য ৯০-১০০ টাকা দাম রাখা হয়। সেই হিসেবে ২৫০-২৮০ টাকা কেজি হিসাবে কিনে সেই ৭০০-৭৫০ টাকায় বিক্রি করে। এক শ্রেণীর খাবার হোটেল ব্যবসায়ী মানুষের প্রয়োজনকে ব্যবহার করে ব্যবসার নামে অতিরিক্ত মুনাফা আদায় করে যাচ্ছে। যা অগ্রহণযোগ্য ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সমাবেশ থেকে গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর স্বার্থ না দেখে ব্যাপকসংখ্যক সাধারণ মানুষের স্বার্থে মহাসড়কের পাশের রেস্তোরাঁর খাবারের দাম ও মান নিয়ন্ত্রণে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়।
শুক্রবার শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক নাগরিক সমাবেশ থেকে এ দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সমাবেশ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফ সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বাপা’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, ড. আব্দুল হাই মজুমদার, সমাজকর্মী এ বি এম আনিছুজ্জামান, কৃষক নেতা জায়েদ ইকবাল খান, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের ইবনুল সাইদ রানা ও ক্যাবের সদস্য মোহাম্মাদ আলী হাজারী।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষকে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত করতে হয়। এর মধ্যে সড়ক ও নৌ-পথেই মানুষকে বেশি বিড়ম্বনরা শিকার হতে হয়। অদক্ষ চালক, ভাঙ্গা রাস্তা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অতিরিক্ত যাত্রী বহনের সঙ্গে দূরপাল্লার সড়কপথে যাত্রীদের মাঝ পথে খাবার গ্রহণে নতুন বিড়ম্বনা অতীতের সব সীমা অতিক্রান্ত হয়েছে।
নেতারা বলেন, যাত্রীদের এই বিড়ম্বনার সঙ্গে যুক্ত থাকে বাসের কিছু কর্মচারী। তারা তাদের ইচ্ছামত হোটেল বা রেস্তোরাঁয় নিয়ে বাসটি থামায়। এর বিনিময়ে তারা কমিশন পান। এর সঙ্গে দূরপাল্লার বাস মালিকরা কেউ এককভাবে অথবা সিন্ডিকেট করে যাত্রীদের একটি নির্দিষ্ট খাবার হোটেলের সামনে নামাতে বাস কর্মচারীদের সঙ্গে গোপনে আতাত করেন। এর ফলে আশপাশে অন্য কোনো দোকান বা খাবার ব্যবস্থা না থাকায় ওই হোটেলের খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছে। এ সব হোটেলের খাবারের মান যাচাই করার কোনো সুযোগ থাকছে না। একই সঙ্গে নেয়া হচ্ছে অস্বাভাবিক দাম।
তারা বলেন, জেলা শহরের প্রান্তসীমা বা গ্রামের মধ্যে গড়ে ওঠা এই সব রেস্তোরাঁর খাবারের দাম অনেক সময় রাজধানী বা বড় শহরের খাবারের দামকেও হার মানায়। আমরা মাঝে মধ্যে রাজধানী বা বিভাগীয় শহরে খাবারের মান নিয়ন্ত্রণে সরকারি তদারকি লক্ষ্য করি। কিন্তু মহাসড়কের পাশের এ সব রেস্তোরাঁয় কোনো তদারকির ব্যবস্থা নেই। ফলে তারা বেপরোয়াভাবে যাত্রীদের কাছ থেকে খাবারের দাম আদায় করে। মহাসড়কের পাশের এই সব রেস্তোরাঁগুলোর অবস্থান জেলা শহরের প্রান্তসীমায় বা থানা শহরের মহাসড়কগুলোর পাশে রেস্তোরাঁ বা খাবার হোটেলগুলো। এই সব রেস্তোরাঁ যাত্রীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিভিন্ন সাজে সজ্জিত করে কিছুটা আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা হয়। যার পেছনে থাকে অসৎ ব্যবসার উদ্দেশ্য। কিন্তু ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুসারে এ ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে কোনো পদক্ষেপ দেখা যায় না, যদিও ভোক্তার স্বার্থ দেখার জন্য পৌরসভা বা থানা পর্যায়ে সরকারি কর্মচারী থাকলেও তারা এ বিষয়ে মোটেও সক্রিয় নন। মহাসড়কের পাশের এ সব রেস্তোরাঁয় কোনো তদারকিই হয় না। ফলে এ গুলোর মালিকরা বেপরোয়াভাবে যাত্রীদের কাছ থেকে খাবারের দাম আদায় করে।
বক্তারা আরো বলেন, ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য হলো মুনাফা করা। কিন্তু অতিরিক্ত মুনাফা করা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। প্রচলিত আইনও এই স্বেচ্ছাচার সমর্থন করে না। আমাদের দেশে ভোক্তা স্বার্থ দেখার জন্য ২০০৯ সালের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি, ২০০৯ সালের ট্রেডমার্ক আইন রয়েছে। একইভাবে ১৯৫৭ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় পণ্যের দাম নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকারের হাতে যে ক্ষমতা রয়েছে তা অনুসরণ করে এই অতি মুনাফার প্রবণতা রোধ করা যায়।
সমাবেশ তারা আরো বলেন, ওই সব রেস্তোরাঁর বিভিন্ন খাবারের যে মূল্য রাখা হয় তা কোনোভাবেই দেশের অন্যান্য খাবার হোটেল বা রেস্তোরাঁর খাবারের মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ন নয়। দু-একটি খাবারের দাম থেকেই আমরা তা বুঝতে পারি। যেমন, ছোট এক বাটি সবজির দাম রাখা হয় ২৫ টাকা। যা দেশের অন্যান্য স্থানের খাবারের হোটেলে রাখা হয় ১০ টাকা। তারা অতিরিক্ত মুনাফা করে ১৫ টাকা। সেই হিসাবে মহাসড়কের পাশে একটি খাবার হেটেলে যদি বছরে ৫০ হাজার বাটি সবজি বিক্রি হয় তাহলে তারা অতিরিক্ত মুনাফা করছে সাত লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা। ঢাকা শহরের একটি ভালো হোটেলে ১০ টাকা দামে চা পাওয়া গেলেও সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, ফরিদপুর, ভৈরব বা কুমিল্লার একটি হোটেলে সেই চা বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকায়।
বক্তারা বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি এ সব হোটেলে এক কেজি গরুর মাংস কিনে রান্নার পর তা আট ভাগে ভাগ করে বিক্রি করা হয় এবং প্রতি ভাগের জন্য ৯০-১০০ টাকা দাম রাখা হয়। সেই হিসেবে ২৫০-২৮০ টাকা কেজি হিসাবে কিনে সেই ৭০০-৭৫০ টাকায় বিক্রি করে। এক শ্রেণীর খাবার হোটেল ব্যবসায়ী মানুষের প্রয়োজনকে ব্যবহার করে ব্যবসার নামে অতিরিক্ত মুনাফা আদায় করে যাচ্ছে। যা অগ্রহণযোগ্য ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সমাবেশ থেকে গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর স্বার্থ না দেখে ব্যাপকসংখ্যক সাধারণ মানুষের স্বার্থে মহাসড়কের পাশের রেস্তোরাঁর খাবারের দাম ও মান নিয়ন্ত্রণে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়।
No comments:
Post a Comment