Pages

Tuesday, October 9, 2012

‘মাহফুজকে গ্রেফতার করলেই সাগর-রুনি হত্যার রহস্য উদঘাটিত হবে’ :: মিডিয়া :: বার্তা২৪ ডটনেট

‘মাহফুজকে গ্রেফতার করলেই সাগর-রুনি হত্যার রহস্য উদঘাটিত হবে’ :: মিডিয়া :: বার্তা২৪ ডটনেট
 এটিএন বাংলা চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানকে গ্রেফতার করলেই সাগর-রুনি হত্যার রহস্য উদঘাটিত হবে বলে দাবি করেছেন সাংবাদিক নেতারা।

সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেফতার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে মতবিনিময় সভায় তারা এই দাবি জানান। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সোমবার বেলা ১২টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে সভা শুরু হয়। শেষ হয় বেলা আড়াইটায়।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১০ অক্টোবরের মধ্যে সাগর-রুনি হত্যার রহস্য উন্মোচনের যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা প্রকারান্তরে সরকারি ঘোষণা। এটি বাস্তবায়ন হলে সরকার সফল হবে। নয়তো মাহফুজুর রহমানের প্রভাবের কাছে প্রশাসনের সব যোগ্যতা ও দক্ষতা বিলীন হবে।”

বিএফইউজে’র আরেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেছেন, “১০ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী বলবেন জানি না। কেউ যদি মনে করেন আন্দোলন করতে করতে একদিন আমরা চুপ হয়ে যাব, তাহলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করতে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছি, খুনি গ্রেফতার হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”

সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে’র মহাসচিব শওকত মাহমুদ ও আবদুল জলিল ভূঁইয়া, ডিইউজে’র সভাপতি আবদুস শহিদ ও ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বাকের হোসাইন ও শাবান মাহমুদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা ও ডিইউজে’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বার্তা২৪ ডটনেট সম্পাদক সরদার ফরিদ আহমদ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন ডিআরইউ’র সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, “এটিএনের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান শুধু সাগর-রুনি সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যই করেননি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কেও অশালীন বক্তব্য দিয়েছেন। এজন্য কক্সবাজারে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় হলমার্কের এমডি তানভীর মাহমুদকে যেভাবে র্যাব গ্রেফতার করেছে, একইভাবে মাহফুজকেও গ্রেফতার করে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করবে, এটি আমাদের প্রত্যাশা।”

তিনি বলেন, “রাষ্ট্র থেকে সাগর-রুনি হত্যার বিচার না পেলে, আমরা গণতদন্ত কমিশন গঠন করব। মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে জনগণের সামনে খুনিদের মুখোশ উন্মোচন করব। মামলার কারণে আমরা ভিত বা বিচলিত নই। বারবার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে প্রস্তুত।”

রুহুল আমিন গাজী বলেন, “নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার হতে সময় লেগেছে। সাগর-রুনি’র হত্যকারীদের বিচার হতেও সময় লাগবে। তিনি কী কারণে এটি বললেন, তা আমার বুঝে আসে না। দু’টি ঘটনা এক নয়। বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীরা চিহ্নিত ছিলেন। কিন্তু সাগর-রুনি হত্যাকারীরা এখনো চিহ্নিত হয়নি।”

“এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকার কোনো নাটক সাজানোর চিন্তা করলে, সেটি তাদের জন্য হিতে বিপরীত হবে।” বলেন তিনি।

শওকত মাহমুদ বলেন, “আমরা মনে করছি, খুনি সনাক্ত করা হয়তো সম্ভব হয়েছিল, এজন্যই সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৪৮ ঘণ্টার কথা বলেছিলেন। কিন্তু খুনিরা প্রভাবশালী হওয়ার কারণে হয়তো তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। আগামী ১০ অক্টোবর নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়ন না হলে, আমাদের সঙ্গে জনগণও রাজপথে নেমে আসবে। সরকার ওঠানো-নামানো আমাদের কাজ নয়, মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা করতে আমাদের এই আন্দোলন।”

সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, “মামলার আসামি হয়ে আমরা ভীত নই। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। ১৫ অক্টোবরের মহাসমাবেশ পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। সেদিন মফস্বলের সব সাংবাদিক ঢাকায় আসবেন। ‘চল চল, ঢাকা চল’ স্লোগান সব সাংবাদিকের কানে পৌঁছে দিতে হবে। ঢাকার ১০৯টি প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিক কর্মচারী এবং দেশের সব সাংবাদিক সংগঠন থেকে কয়েক হাজার সাংবাদিক উপস্থিত হবেন।”

“আমরা মামলা, গ্রেফতার, হুমকিতে ভয় করি না। ১০ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য প্রকাশ করতে না পারলে, ১৫ অক্টোবর মহাসমাবেশ থেকে কঠোর কর্মসূচি আসবে।” হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

আব্দুস শহিদ বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুধু এ হত্যার রহস্য উন্মোচনই নয়, এতোদিন প্রশাসনের বক্তব্যে যেসব বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলোরও অবসান করতে হবে।”

ওমর ফারুক বলেন, “হলমার্কের দস্যুদের মতো সাগর-রুনির খুনিদেরও আমরা গ্রেফতার দেখতে চাই।”

বাকের হোসাইন বলেন, “আমরা মনে করি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সঠিক ইনফরমেশন জেনেই ১০ অক্টোবর হত্যার রহস্য উন্মোচনের ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা সেটি দেখার জন্য অপেক্ষা করছি।”

শাবান মাহমুদ বলেন, “সাগর-রুনি হত্যার বিচার না হলে, এই সরকারের অবস্থা হয়তো শোচনীয় হয়ে যেতে পারে।”

সরদার ফরিদ আহমদ বলেন, “এই হত্যার বিচার এখন শুধু সাংবাদিকদের দাবি নয়, এটি এখন জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। মিডিয়ার কর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তার জন্য এই বিচার অত্যন্ত জরুরি।”

আরো বক্তব্য রাখেন, সাব এডিটর কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সিনিয়র সাংবাদিক কার্তিক চট্টোপাধ্যায়, নারী সাংবাদিক কেন্দ্র’র সভাপতি নাসিমুন আরা হক, টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন’র (টিসিএ) শাহীন হাওলাদার, বাংলাবাজার পত্রিকার ইউনিট চিফ মনিরুল ইসলাম, ইনডিপেনডেন্ট টিভি’র ইলিয়াস হোসেন, বাংলাবাজার পত্রিকার মশিউর রহমান, সাংবাদিক কামার ফরিদ, মাছরাঙার প্লানিং এডিটর রাশেদ আহমেদ, সাংবাদিক রফিকুল বাশার ও আরটিভির আখতার হোসেন।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম রাজাবাজারের বাসা থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও তার স্ত্রী এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনির ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন খুনিদের গ্রেফতারে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। কিন্তু আট মাস পূর্ণ হতে চললেও এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়নি।

এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে সাংবাদিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে। সর্বশেষ গত ২৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিক সমাবেশ হয়। ওই সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা বলেন, ১০ অক্টোবরের মধ্যে সাগর-রুনি হত্যার রহস্যের জট খুলবে বলে নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর ঘোষণা দিয়েছেন। এটি বাস্তবায়ন না হলে আগামী ১৫ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সারা দেশের সাংবাদিকদের নিয়ে মহাসমাবেশ করা হবে এবং সেদিন পুরো ঢাকা অচল করে দেয়া হবে। বৃহত্তর এই আন্দোলনের প্রস্তুতির জন্য ৭ অক্টোবর সব সাংবাদিক সংগঠনের নেতা ও সদস্যদের নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মতবিনিময় সভার সিদ্ধান্ত হয়। পরে সভাটি একদিন পেছানো হয়।

আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে গত ২৫ সেপ্টেম্বর আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর।

আগামী ১১ অক্টোবর সাগর-রুনি হত্যার আট মাস পূর্ণ হচ্ছে। এদিন তাদের স্মরণে জাতীয় প্রেস ক্লাবে শোকসভা করবেন সাংবাদিকরা।

No comments:

Post a Comment