Pages

Monday, October 8, 2012

মমতা নেই তিস্তাচুক্তিতে বাধাও নেই: নয়া দিল্লি :: বিদেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট

মমতা নেই তিস্তাচুক্তিতে বাধাও নেই: নয়া দিল্লি :: বিদেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট
 জোট থেকে মমতা ব্যানার্জির বেরিয়ে যাওয়ায় মনমোহন সরকার এখন তিস্তাচুক্তি করতে পারবে-এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী সালমান খুরশিদ। নয়া দিল্লি মনে করছে, বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে তাদের দেয়া ওয়াদা অনুযায়ী চুক্তিগুলি সম্পন্ন না হলে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বেকায়দায় পড়বে। ভারত মনে করে, বাংলাদেশ তাদেরকে অনেক ছাড় দিয়েছে। এখন তার প্রতিদান দেয়া দরকার। আসামের প্রভাবশালী পত্রিকা যুগশঙ্খ শনিবার এ সংবাদ দিয়েছে।

যুগশঙ্খ লিখেছে, “খুব শিগগিরই বাংলাদেশের সঙ্গে সংলগ্ন উত্তর-পূর্বের সবকটি বাণিজ্যদুয়ার খুলে দেয়া হবে। তবে এর আগে বহু বিতর্কিত তিস্তাচুক্তি রূপায়নের কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করে নিতে চাইছেন উদ্যমী প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। উল্লেখ্য, মমতা বন্দোপাধ্যায় সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়ার পর বাংলাদেশের সঙ্গে বিতর্কিত তিস্তাচুক্তি রূপায় আর কোনো বাধাই রইল না প্রধানমন্ত্রীর সামনে।”

যুগশঙ্খ জানায়, দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রান্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট দিল্লি এবং ঢাকার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ যৌথভাবে আয়োজিত ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে একটি আলোচনা সভায় এমন কথাই বলেছেন ভারতীয় নেতারা।

সংবাদে বলা হয়, শুক্রবার ভারতের কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী সালমান খুরশিদ এ ব্যাপারে পরিষ্কার ইঙ্গিত দিয়েছেন। মমতার নাম না করে সালমান জানিয়েছেন, আগে কিছু রাজনৈতিক শক্তি বিরোধিতা করেছিল। এখন এই চুক্তি বাস্তবায়নের পথে আর কোনো বাধা নেই।

তিনি আরো বলেছেন, “কেন্দ্র চাইছে তিস্তা চুক্তিটি যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ সংলগ্ন উত্তর-পূর্বের প্রস্তাবিত সবকটি ট্রানজিট, করিডোর, টিপাইমুখ জলবিদ্যুত প্রকল্প, বন্দি প্রত্যার্পণ চুক্তি, সীমান্ত সমঝোতাসংক্রান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের কাজ সম্পূর্ণ সেরে নিতে।”

উল্লেখ্য, ভারত ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে দু’দিনের বিশেষ আলোচনাচক্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনাচক্রে দু’দেশের মধ্যে সুসম্পর্কের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগব্যবস্থা, পানিবন্টন এবং সংবাদ ও সংবাদপত্রের ভূমিকা নিয়ে সবিস্তারে আলোচনা হয়েছে। সাংবাদিক থেকে শুরু করে বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বুদ্ধিজীবীরা এই প্রতিনিধিদলে ছিলেন। কেন্দ্রীয় ডোনারমন্ত্রী পবনসিং ঘাটোয়ার থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী জয়রাম রমেশ, বিভিন্ন দলের এমপি, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরা এই আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

যুগশঙ্খের সংবাদে বলা হয়, এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেছেন, “শুধু টিপাইমুখ বা তিস্তাচুক্তিই নয়, প্রত্যেকটি ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে আমরা নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। তাই সব ক্ষেত্রে হাসিনা সরকার ভারতের সহযোগিতা কামনা করেন। তবে বিশেষ করে তিস্তা চুক্তিটি যত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে ততই সুবিধা হবে বাংলাদেশের পক্ষে।”

যুগশঙ্খ লিখেছে, “শেখ হাসিনার দল ক্ষমতায় আসার পর ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে নানাভাবে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বে জঙ্গি সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে হাসিনা সরকার ভারতকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু তিস্তাচুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মমতা বন্দোপাধায়ের আপত্তিতেই কার্যত পিছিয়ে যায় সব তৎপরতা।”

রিপোর্টে আরো বলা হয়, “অন্যদিকে, বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে হাসিনা সরকারের ধারণা। এটা ভারত সরকারও ভালো করে জানে। তাই ভারত সরকারও চাইছে আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে সবধরনের চুক্তির কাজ শেষ করে ফেলতে।”

এ ছাড়া আইনমন্ত্রী খুরশিদ তার বক্তব্যে জানান, এমন অনেক পরিবার আছে যাদের সদস্যরা দু’দেশের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন। নানা আইনগত বাধার জন্য তাদের মধ্যে সহজে দেখা-সাক্ষাত হয় না। তিনি পরারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলেছেন যাতে এ ধরনের পরিবারগুলো দু’দেশের মধ্যে সহজে যাতায়াত করতে পারে এরজন্য বিশেষ ভিসার ব্যবস্থা করা হয়। এমনটা হলে দু’দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক আত্মীয়তা আরো গভীর হবে।

No comments:

Post a Comment