হারানোর ছিল না কিছুই। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুটিতে জয় নিয়ে সিরিজ
নিজেদের করে নেয় সফরকারিরা। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) দল
নেমেছিল ফুরফুরে মেজাজে। তবে শেষ ম্যাচটা ‘এ’ দলের ক্রিকেটারদের কাছে হয়ে
পড়েছিল মান বাঁচানোর শেষ সুযোগ। আজ মিরপুরে শুধু নিজেদের সম্মান রক্ষাই নয় ৯
উইকেটের বিশাল জয় নিয়ে আগের দুই ওয়ানডে হারেরও ঝাল মিটিয়েছেন
আনামুল-মমিনুলরা। বোলারদের তান্ডবে মাত্র ৫৪ রানে গুটিয়ে যাওয়া
ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে জয়টা এসেছে মাত্র ৮ ওভার ৪ বলে।
চারদিনের ম্যাচে ক্যারিবীয় দলটি কোনো পাত্তা না পেলেও ওয়ানডে সিরিজে
বাঁ-হাতি স্পিনারদের কল্যাণে প্রথম দুই ম্যাচেই সহজ জয় তুলে নেয় সফরকারিরা।
এরপরই প্রশ্ন ওঠে নির্বাচকদের দল গঠন ও ‘এ’ দলের ব্যাটসম্যানদের বাঁ-হাতি
স্পিন ভীতি নিয়ে। আজ তাই একাদশে পরিবর্তনটা একরকম নিশ্চিতই ছিল। একাদশ থেকে
বাদ পড়েন আগের দুই ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেয়া রকিবুল হাসানও। সব মিলিয়ে ৬
পরিবর্তন। আসিফ আহমেদ রাতুল ও মাহমুদুল হাসান লিমনের সঙ্গে একাদশে যোগ দেন
আবুল হাসান রাজু, জিয়াউর রহমান, মমিনুল হক ও সৌম্য সরকার। তবে ম্যাচের নায়ক
কোনো ব্যাটসম্যান নন সেই বোলাররাই। তাও আবার এককভাবে কেউ নন।
মর্যাদা রক্ষার শেষ সুযোগটা ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছেন আবুল হাসান, সৌম্য
সরকার, নাঈম ইসলাম ও এনামুল হক। প্রত্যেকেই দখল করেন দুটি করে উইকেট। আর
তাতে মাত্র ১৮ ওভারেই কফিনবন্দি হাইপারফরম্যান্স দল।
টস জয়ের পর ব্যাট করতে নেমেই ‘এ’ দলের বোলারদের তোপেড় মুখে ৩৫ রানেই নেই
ক্যারিবীয়দের সেরা পাঁচ ব্যাটসম্যান। ম্যাচের প্রথম বলে ফ্লেচারের (০) রান
আউটের পর পরের চার উইকেট ভাগাভাগি করেন রাজু ও সৌম্য। এরপর হাত ঘোরাতে এসে
নাঈম, এনামুলরাও আঘাত হানেন দুবার করে। ১৮ ওভারে বাক্সবন্দি হওয়ার আগে ৫৪
রান সংগ্রহ করে এইচপি দল। জবাবে প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই হাঁটুতে চোট
নিয়ে মাঠ ছাড়েন ওপেনার সৌম্য। দলীয় ৪ রানে শাহরিয়ার নাফীসও বিদায় নিলে
কিছুটা শংকা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু আনামুল (২৩)-মোমিনুল (২৫) জুটি বাকি পথটা
পাড়ি দেন নির্বিঘ্নেই। ৮.৪ ওভারে ম্যাচ জিতে মিটিয়ে নেন আগের দুই ম্যাচ
হারের ঝালটাও।

No comments:
Post a Comment