অস্ট্রেলিয়াকে ৩২ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালের স্বপ্ন জিইয়ে
রাখলো পাকিস্তান। তবে দিনের অপর ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ভারত হারলেই
গ্রুপ-২ থেকে সুপার ফোর নিশ্চিত হবে পাকিস্তানের।
আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের দেয়া ১৫০ রানের জবাবে খেলতে নামা
অজিদের শুরু থেকেই চেপে ধরে পাকিস্তানের বোলাররা। ১৯ রানের মধ্যে প্রথম
সারির দুই উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এদিন বিধ্বংসী ওয়াটসনের ব্যাটে ঝড় উঠতে
দেয়নি রাজা হাসান। ৮ রান করা ওয়াটসনকে এলবিডব্লিউ ফাঁদে ফেলেন এই স্পিনার।
আরেক ওপেনার ওয়ার্নারও সুবিধে করতে পারেনি এদিন। ওয়ার্নারকে (৮) ফেরান
হাফিজ।
তবে প্রথম উইকেটে খেলতে নামা হাসি দলকে টেনে নেয়ার চেষ্টা চালান। ওয়েডকে
সঙ্গে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে ৪০ রানের জুটি গড়েন হাসি। তবে দলকে জয়ী করে মাঠ
ছাড়তে পারেননি এই মারকুটে ব্যাটসম্যান। ৪৭ বলে চারটি চার এবং একটি ছক্কা
হাকিয়ে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন হাসি।
এছাড়া বেইলি ১৫ এবং ওয়েড ১৩ রান করলেও আর কোনো ব্যাটনস্যানের কাছ থেকে সম্মানজনক কোনো স্কোর আসেনি।
অজিদের ক্রিজে আসা-যাওয়ার মিছিলে সামিল করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান
সাঈদ আজমল। এই স্পিনারের বলে খুব একটা সুবিধে করতে পারছিলো না অজিরা। ৪
ওভার বল করে ১৭ রানে তিনটি উইকেট নেন আজমল। এড়াছা রাজা হাসান এবং হাফিজ
উভয়েই দুটি করে উইকেট ভাগাভাগি করে নেন।
এর আগে, আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম, কলম্বোতে টস হেরে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রান করে পাকিস্তান।
শুরুটা পাকিস্তানেরও ভালো ছিলো না। দলীয় ৫ রানের মাথায় ওপেনার হাফিজেকে
এলবিডব্লিউ ফাঁদে ফেলেন স্টার্ক। ব্যাট হাতে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি আরেক
ওপেনার ইমরান নাজিরও। ১৪ রান করে ওয়াটসনের বলে বেইলির হাতে ক্যাচ তুলে দেন
নাজির।
তবে নাসির জামশেদ এবং কামরান আকমলের তৃতীয় উইকেট জুটি ঘুরে দাঁড়ালে বড়
সংগ্রহের পথেই এগুতে থাকে পাকিস্তানের ইনিংস। এই জুটির ব্যাট থেকে আসে
সর্বোচ্চ ৭৯ রান।
দলীয় ১০৮ রানের সময় তৃতীয় উইকেট হারায় পাকিস্তান। ডোহার্টির বলে
ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন জামশেদ। তবে আউট হওয়ার
আগে নিজের ক্যারিয়ার ফিফটি তুলে নেন। ৪৬ বলে চারটি চার এবং দুটি ছক্কা
হাকিয়ে ৫৫ রানের ঝকঝকে এক ইনিংস খেলেন জামশেদ।
১৫.১ ওভারে জামশেদের পথ ধরেন কামরান আকমল। ৩২ রান করা আকমলকে ফেরান স্টার্ক।
১০৮ রানে তিন উইকেট হারানো পাক শিবিরকে বাকি পথটুকু পাড়ি দিতে সাহায্য
করেন উমর আকমল-আব্দুল রাজ্জাক। এই দুই জুটির ব্যাট থেকে আসে ২৮ রান। উমর
আকমল ৯ রানে অপরাজিত থাকলেও ২২ রান করা রাজ্জাককে ফেরান কামিন্স।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রানের লো স্কোর সংগ্রহ করে পাকিস্তান।
অজিদের হয়ে মিচেল স্টার্ক ২০ রানে তিন উইকেট নেন।

No comments:
Post a Comment