Pages

Tuesday, September 11, 2012

কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদামের নিরাপত্তা হুমকির মুখে :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদামের নিরাপত্তা হুমকির মুখে :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

 রাজধানীর কাওরান বাজারে অবস্থিত কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণ এবং সরবরাহ (সিএসডি) গোডাউনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে। গোডাউনের প্রধান ফটক ও তার আশপাশের এলাকায় সড়ক দখল করে ট্রাক স্ট্যান্ড গড়ে তোলা এবং গড়ে ওঠা বস্তির কারণে সিএসডি গোডাউনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে বলে অভিযোগ করেছেন গোডাউনের একাধিক কর্মচারী ও কর্মকর্তা।

সরকারি তথ্যমতে, এ অঞ্চলটি সরকারের সংরক্ষিত এলাকা। আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত এলাকার কমপক্ষে ১৪ ফুট দূরে স্থাপনা থাকতে হবে। কিন্তু এ অঞ্চলে সিএসডি গোডাউন, জরিপ অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন অফিস থাকা সত্বেও এ অঞ্চলটির নিরাপত্তা নেই।

এছাড়াও, সিএসডি গোডাউনের চারপাশের ফুটপাথ (ওয়াক ওয়ে) দখল করে বস্তিবাসী ও দোকানসহ গড়ে ওঠা বিভিন্ন কারখানার বর্জ্য সিএসডি গোডাউনের আশেপাশের পরিবেশ নষ্ট করছে বলেও জানান তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কাওরান বাজার থেকে সাতরাস্তা যাওয়ার পথে রেল ক্রসিংয়ের পাশেই ট্রাক স্ট্যান্ড অবস্থিত। ট্রাক স্ট্যান্ডের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় রেল ক্রসিং এলাকা থেকে সিএসডি গোডাউনের প্রধান ফটক পর্যন্ত রাখা হয়েছে সারি সারি ট্রাক, পিক-আপসহ কাভার্ড ভ্যান। এসব ট্রাক, পিক-আপ ও কাভার্ড ভ্যানগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ও ব্যক্তি মালিকানাধীন। সিএসডি গোডাউনের প্রধান ফটক তথা পুরো এলাকা জুড়ে এসব ট্রাক, পিক-আপ ও কাভার্ড ভ্যানগুলো রাখার কারণে সিএসডি গোডাউনের নিজস্ব পরিবহন তথা সরকারি কাজে ব্যবহৃত গাড়িগুলোর গোডাউনের ভেতরে প্রবেশ এবং বের হতে প্রতিবদ্ধকতার সৃষ্টি হয়।

এছাড়াও, সিএসডি গোডাউনের নিরাপত্তা দেয়ালকে পেছনের দেয়াল হিসেবে ব্যবহার করে, দুই পাশে দুইটি দেয়াল তৈরি করে, সামনে একটি সাটার দিয়ে গড়ে ওঠেছে দোকান-পাট, কারখানা, ট্রাক মেরামত ও গাড়ি মেরামতের বিভিন্ন ওয়ার্কসপ। এসব দোকান-পাট, কারখানা, ওয়ার্কসপগুলোকে কেন্দ্র করে এ এলাকায় কর্মরত মানুষগুলো সিএসডি গোডাউনের আশেপাশের এলাকায় গড়ে তুলেছে বস্তি।

তাছাড়া সিএসডি গোডাউনের আশেপাশে গড়ে ওঠা দোকান-পাট, কারখানা ও ওয়ার্কসপগুলোর পরিত্যক্ত ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র ফেলে রাখার কারণে নষ্ট হয়েছে কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহ গোডাউনের নিজস্ব পরিবেশ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিএসডি গোডাউনের আশেপাশে গড়ে ওঠা বস্তিবাসীদের রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এ চক্রটি কোনো একটি শক্তিশালী মহলের মদদেই এ অঞ্চলে নিজস্ব কর্তৃত্ব বজায় রেখেছে। যে কারণে সিএসডি গোডাউনের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারি তাদের টিকিটিও স্পর্শ করতে পারেন না। বরঞ্চ কোনো কিছু বলতে গেলেই পড়তে হয় বিপদে, হতে হয় অপদস্ত।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, ১/১১ এর সময়ে এ অঞ্চলটি একবার পরিষ্কার করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এ অঞ্চলে সুবিধাভোগী একটি চক্র আবার দখল করে বস্তি দোকান-পাট, কারখানা ও ওয়ার্কসপ গড়ে তুলে। এ চক্রটি এ অঞ্চলে প্রতিটি ট্রাক, পিক-আপ, কাভার্ড ভ্যান তথা গাড়ি রাখার জন্য প্রতি রাতে ১০০ টাকা করে নিয়ে থাকে। বস্তিবাসী এ চক্রের অধিকাংশ বাসিন্দারই দেশের বাড়ি ভোলায়।

এ ব্যাপারে তেঁজগাও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, ‘‘এ ব্যাপারে লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। যদি কোনো অভিযোগ আসে তাহলে আমি অবশ্যই ব্যবস্থা নিব।’’

এ ব্যাপারে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (ডিসিসি) প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক কমান্ডার এনামুল হক বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, ‘‘আপনার কাছ থেকে বিষয়টি জেনে রাখলাম। ব্যবস্থা নিব। এ ব্যাপারে কোনো আবেদন আমাদের কাছে আসেনি। কেউ আবেদন করলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিতাম।’’  

এ ব্যাপারে ট্রাক ওনার্স অ্যাসোশিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল আলম মন্টু বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, ‘‘সারা বাংলাদেশ থেকে এখানে ট্রাক আসে। জেলখানা, পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মামলামাল এখান থেকেই নিয়ে যাওয়া হয়। এ ট্রাকগুলো আসে এবং মালামাল বোঝাই করে চলে যায়। হয়তো মালামাল লোড-আনলোড করার জন্য কিছু সময় অপেক্ষা করতে হয় তাদের।’’

এ ব্যাপারে সিএসডি গোডাউনের প্রধান ব্যবস্থাপক মো. আজিমুল হক বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, ‘‘ সিএসডি গোডাউনে ১০০ থেকে ১৫০ জন স্টাফ রয়েছেন। এছাড়াও, ৫০০ থেকে ৬০০ শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করেন। রাস্তাটার বেহাল দশা। ময়লা-বর্জ্য পড়ে থাকে যত্রতত্র। বৃষ্টির দিনে চলাফেরার ভীষণ সমস্যা হয়।’’ 

No comments:

Post a Comment