পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে তাদের দেয়া
চারটি শর্তের সবগুলোই একে একে পূরণ করছে সরকার। আবুল হোসেনকে দুদকে
জিজ্ঞাসাবাদ ও পদত্যাগ করার পর বিশ্বব্যাংকের শর্তপূরণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়
অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দু-এক
দিনের মধ্যে মসিউরকে তিন থেকে ছয় মাসের ছুটিতে পাঠানো হবে। এছাড়া দুদকে
জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে চলতি সপ্তাহে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও অর্থমন্ত্রণায় সূত্রে এ কথা জানা যায়। শিগগিরই এ বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে বলেও সূত্র জানায়।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা
করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সোমবার রাত ৪টায় ওয়াশিংটনের
উদ্দেশে রওনা করেছেন।
মসিউর রহমানের ছুটিতে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাংকের চতুর্থ শর্ত পূরণ
হবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে সরকারি দায়িত্ব থেকে বিরত থাকছে
চিহ্নিত আমলারা।
ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোশারফ হোসেন ভূঁইয়াকে তদন্ত চলাকালীন
ছুটিতে রাখা হয়েছে। আবুল হোসেন পদত্যাগ করার পর তাকে দুদকে তদন্তের জন্য
জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন করা হয়েছে।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে অনিয়মের ব্যাপারে বিশ্ব ব্যাংকের দেয়া তালিকায় নাম
থাকা সব ব্যক্তিকেই জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক। সে তালিকা থেকে কাউকে বাদ রেখে
তদন্ত করলে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে-এমন আশঙ্কায়
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্বব্যাংকের চতুর্থ শর্ত অনুযায়ী পদ্মা সেতু প্রকল্পে যে ক’জন সরকারি
কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেয়ার শর্ত দিয়েছে এর মধ্যে মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন,
তখনকার সেতু বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ও প্রধানমন্ত্রীর অর্থ
উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের নাম উল্লেখ রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অভিযোগ যেহেতু বিশ্বব্যাংক দিয়েছে সে কারণে
বিশ্বব্যাংকের কালো তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করতেই হবে।
বিশ্বব্যাংকের শর্তানুযায়ী দুদকের তদন্ত না হলে বিশ্বব্যাংক এ তদন্ত নিয়ে
প্রশ্ন করতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের দেয়া আরো দুইটি শর্তপূরণের প্রস্তুতি চলছে সরকারের। প্রথমত
দুর্নীতি দমন কমিশনকে একটি বিশেষ যৌথ তদন্ত ও বিচারিক টিম গঠনের প্রস্তাব
দেয়া হয়েছিল যাতে দুদক সম্মতি দিয়েছিল। দ্বিতীয়ত দুদককে বিশ্ব ব্যাংকের
তত্ত্বাবধানে একটি বাইরের প্যানেলের কাছে তথ্য দেয়ার এবং প্যানেলকে তদন্ত
প্রক্রিয়ার পর্যাপ্ততা মূল্যায়নের সুযোগ দেয়ার প্রসত্মাব দেয়া হয়েছিল।
প্রথমে এ বিষয়ে অমত প্রকাশ করলেও দুদক বাইরের প্যানেলের সঙ্গে তথ্য বিনিময়
করার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নিয়েছে।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে নতুন কমিটি গঠন করেছে
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চলতি মাসে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে দুদকের
পুরানো অনুসন্ধান দলে এ পরিবর্তন আনা হয়। এ কমিটি পদ্মা সেতু নির্মাণ
প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ ও পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখবে
বিশ্বব্যাংকের বিশেষ তদন্ত কমিটির সঙ্গে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের একজন কর্মকর্তা বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন,
সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের
বাইরের প্যানেলের সঙ্গে কাজ করার জন্য তদন্ত টিম পুনর্গঠন করা হয়েছে।
সেপ্টেম্বরে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেয়া হয়, পদ্মা সেতু প্রকল্পের
অনিয়মে উচ্চপর্যায়ের কেউ জড়িত থাকলেও ব্যবস্তা নেয়া হবে।
চার সদস্যের নতুন টিম রয়েছে দুদকের চার উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ-আল জাহিদ,
মীর মো. জয়নাল আবেদীন শিবলি, গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী ও মীর্জা জাহিদুল আলম
নতুন তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন। আগামী ১৫ কার্যদিবস শেষে পদ্মা সেতুর বিষয়ে
একটি প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
পদ্মা সেতুর প্রাক যোগ্যতা ও ঠিকাদার নিয়োগের বিষয়ে এরই মধ্যে ৩১ জনকে
জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কানাডা থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই বাছায়ের পর
তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

No comments:
Post a Comment