Pages

Monday, September 3, 2012

সাগর-রুনি হত্যা: দীর্ঘসূত্রিতায় উদ্বেগ আরো বাড়ছে :: মিডিয়া :: বার্তা২৪ ডটনেট

সাগর-রুনি হত্যা: দীর্ঘসূত্রিতায় উদ্বেগ আরো বাড়ছে :: মিডিয়া :: বার্তা২৪ ডটনেট

 সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি খুনের ঘটনায় সাংবাদিক নেতারা বলেছিলেন ঈদুল ফিতরের পর কঠোর কর্মসূচির ডাক দেবেন। ঈদের পর ১০ দিন চলে গেলেও তারা কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেননি। এতে ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশ বিদেশের বাঙালি সদস্যরা। ‘সাগর রুনি’র হত্যাকারীদের বিচার চাই’ নামের ফেসবুক পেইজে ব্যবহারকারীরা ঈদের পর সাংবাদিক নেতাদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এছাড়া ব্লগ সাইটগুলোতেও এই হত্যাকাণ্ডের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থেমে নেই। ডিএনএ পরীক্ষার নামে ‘কালক্ষেপণের কৌশল’ হিসেবে র্যাবের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্নের শেষ নেই।

কেউ বলছেন এভাবে আবার অনেক দিন অতিবাহিত হবে। আস্তে আস্তে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদও শেষ হবে। অন্য সরকার আসবে যাবে, কিন্তু সাগর-রুনি হত্যাকারীদের বিচারের বিষয়টি অনিশ্চিতই থেকে যাবে। আবার কারো অভিযোগ- সরকারের সদিচ্ছার অভাবের কারণেই খুনিদের মুখোশ খুলছে না।

শনিবার বিকেলে চারটা পর্যন্ত ফেসবুকে ‘সাগর রুনি’র হত্যাকারীদের বিচার চাই’ নামক পেইজটি লাইক করেছেন ১৬ হাজার ৭৯ জন ব্যবহারকারী।

পেইজটি পরিচালনাকারী তার সর্বশেষ পোস্টে বলেছেন, “ঈদ তো শেষ, সাংবাদিক নেতারা নীরব কেন?”

এর জবাবে একজন লিখেছেন, “সময়ের সাথে হারিয়ে গেছে সব, ভরসা একমাত্র আল্লাহই।”

অন্যজন লিখেছেন, “সামনে আরেকটা ঈদ আছে।”

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, “তাহলে কী করবেন? আন্দোলন, মারামারি নাকি আমাদের দুর্ভোগ? পারেন তো এমন কিছু করেন, যাতে আমরা জনগণ এগিয়ে আসি।”

এর আগে র্যাবের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের পর গত ২৬ আগস্ট পেইজটি পরিচালনাকারী লিখেছেন, “সবকিছু পর্যালোচনা করে একথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, আশার আলো এখনো জ্বলেনি। সন্দেহভাজনদের ডিএনএ প্রোফাইল প্রস্তুত করে তা মিলিয়ে দেখতে হবে। মিলে গেলে তখন শুরু করা যাবে তদন্তের দ্বিতীয় পর্ব। আপাতত তার আগ পর্যন্ত আম জনতাকে বিভ্রান্ত করতে আরো অনেক মূলোই রয়ে গেছে।”

ঈদপরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “আগামীকাল (রোববার) আমরা মিটিংয়ে বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।”

গত ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে পশ্চিম রাজাবাজারের বাসা থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনির ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন খুনিদের গ্রেফতারে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। এরপর পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার ‘প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি’র কথা বলেন।

তবে এরপরও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় গত ১৮ এপ্রিল মামলার তদন্ত সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ আদালতে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নেয়। এরপর উচ্চ আদালত র‌্যাবকে মামলার তদন্ত করার নির্দেশ দেন। তদন্তভার পাওয়ার পর গত ২৬ এপ্রিল ভিসেরা আলামতের জন্য দু’জনের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। ভিসেরা পরীক্ষায় সাগর-রুনির শরীরে বিষক্রিয়ার কোনো আলামত মেলেনি।

তদন্ত শুরুর পর এখনো এ মামলায় কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। তবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে চারজনকে অন্য মামলায় গ্রেফতার করে। গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত পর্যায়ে ৪০ জনকে এবং র‌্যাব এখন পর্যন্ত ৯৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

সর্বশেষ গত ২৪ আগস্ট র্যাব জানায়, আমেরিকা থেকে রাসায়নিক ও একটি ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল আসার পর সাগর-রুনির খুনিদের শনাক্ত করতে মাঠে নামবেন তারা। তার আগে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে। আমেরিকা থেকে পাওয়া ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে মিলিয়েই অপরাধী শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে বলে জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার এম সোহয়েল।

No comments:

Post a Comment