Pages

Saturday, September 8, 2012

বাবার সম্পত্তি নিয়ে ভ্রাতৃবিরোধে প্রাণ হারায় খাইরুল :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

বাবার সম্পত্তি নিয়ে ভ্রাতৃবিরোধে প্রাণ হারায় খাইরুল :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
পৈতৃক সম্পতির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে সোহরাওয়ার্দী তার বড় ভাই শহীদুলের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। এই বিরোধের জেরধরেই বড় ভাবীকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ক্রস ফায়ারে পড়ে নিহত হন নিরাপরাধ জেনারেটর মেকানিক খাইরুল ইসলাম।
 
এলাকাবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাড়ির মালিক আব্দুল আওয়ালের ৫২৬ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলার ছাদে তার বড় ছেলে লিংকনের মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠান চলছিলো। ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন তিন শতাধিক অতিথি। আমন্ত্রিত হয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন আ. আওয়ালের শ্বশুরবাড়ির লোকজন। ওই সময় আওলের ছোট সম্বন্ধি সোহরাওয়ার্দী তার বড় ভাই একেএম শহীদুলের সাথে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হয় এবং তাকে ব্যাপক গালিগালাজ করে। উপস্থিত আত্মীয়-স্বজনরা তাদের শান্ত করে সোহরাওয়ার্দীকে নিয়ে ছাদ থেকে নিচে চলে আসেন। অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে চলে যায় সোহরাওয়ার্দী। এর কিছুক্ষণ পর কয়েকজন ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে পুনরায় অনুষ্ঠানস্থলে এসে বড় ভাইকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। স্বামীকে গালিগালাজ ও অপমান সহ্য করতে না পেরে ঘটনাস্থলে আসেন সোহরাওয়ার্দীর বড় ভাবী। কথা নিয়ে সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে ভাবীর বাকবিতন্ডা চলতে থাকে। এক পর্যায়ে সোহরাওয়ার্দী তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পিস্তল দিয়ে গুলি করে। সেই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে জেনারেটর মেকানিক খাইরুলের বুকে বিদ্ধ হয় এবং রক্তাক্ত খাইরুলকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
 
অনুষ্ঠান চলাকালে হত্যাকান্ডের ঘটনায় আমন্ত্রিত অতিথিরা ওই স্থান ত্যাগ করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় খায়রুলকে বাড়ির পাশের ড্রেন থেকে তুলে গাড়ীচালক জুলহাস ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের কথা ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে এসে হাজির হয় র‌্যাব-৩, সিআইডি, ডিবিসহ স্থানীয় থানা পুলিশ সদস্যরা। তারা ঘটনাস্থলে থাকা লোকজনদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
 
আ. আওয়ালের বাড়ির দারোয়ান আজহার জানান, তিনি তখন বাড়ির মূল দরজায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে হঠাৎ করে শোরগোল শোনা যায়। এক পর্যায়ে দেখা যায় সোহরাওয়ার্দীর বড় ভাবী নিচে নেমে এসেছে এবং সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হয়েছে। সেখানে কি হয়েছে তিনি তা জানাতে পারেননি। তার পাশেই খাইরুল দাঁড়ানো ছিলেন হঠাৎ একটি গুলির শব্দ ও খাইরুলকে নিচে পড়ে যেতে দেখেন। পরবর্তীতে কিছু বুঝে ওঠার আগেই সোহরাওয়ার্দী ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সটকে পড়েন এবং খাইরুল নিচে পড়ার কিছুক্ষণ পর ড্রেনের মধ্যে পড়ে যায়। তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
 
ওই বাড়ির মালিক আব্দুল আওয়াল জানান, তার দুই সম্বন্ধী মধ্যে (বড় ভাই শহীদুল ও ছোট ভাই সোহরাওয়ার্দী) দীর্ঘদিন ধরে খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগের সম্পদ নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। বৃহস্পতিবার তার বড় ছেলে লিংকনের মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠান চলছিলো। এসময় সোহরাওয়ার্দী এসে তৃতীয় তলার অনুষ্ঠানস্থলে তার  বড় ভাই শহীদুলের সাথে দুর্ব্যবহার করে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির মত ঘটনা ঘটনার সম্ভাবনা থাকায় সোহরাওয়ার্দীকে আত্ময়-স্বজনরা বাড়ির নিচে নিয়ে যায়। সোহরাওয়ার্দী ওই সময় অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে চলে গেলেও কিছুক্ষণ পর পুনরায় ফিরে এসে তাকে গালিগালাজ করতে থাকে। ওই সময় স্বামীর সাথে দুর্ব্যবহারের কথা শুনে শহীদুলের স্ত্রী নিচে নেমে এসে সোহরাওয়ার্দীর সাঙ্গে ঝগড়া শুরু করেন। উপস্থিত আত্মীয়-স্বজনরা তাদের শান্ত হতে বললেও সোহরাওয়ার্দী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়েন। ওই গুলি বড় ভাবীর শরীরে বিদ্ধ না হয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে জেনারেটর মেকানিক খাইরুলের বুকের বাম পাশে বিদ্ধ হয়ে মারা যায় বলে জানান তিনি।
 
শুক্রবার দুপুরে ময়না তদমত্ম শেষে নিহত খাইরুলের লাশ তার গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
 
উলেস্নখ্য, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে খিলগাঁও হাই স্কুলের বালুর মাঠ সংলগ্ন ১১ নম্বর সড়কের ৫২৬ নম্বর বাড়ির পাশে খাইরুল ইসলাম গুলিতে গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ময়না তদন্তের জন্য লাশটি মর্গে পাঠানো হয়।
 
নিহত খাইরুলের পিতার নাম জয়নাল আবেদিন, তার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের ত্রীবন্দরে। খায়রুল খিলগাঁওয়ের রোড-১১ এর ৫৩৪/সি নম্বর বাড়িতে বসবাস করতেন। নিহত খাইরুলের ৩ ভাই ১ বোন। ভাই বোনদের মধ্যে সে তৃতীয়।

No comments:

Post a Comment