নীলফামারীতে গবাদি পশুর গোবর থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। আর এ
বায়োগ্যাসকে ফিল্টার করে সহজে পাওয়া যাচ্ছে মিথেন গ্যাস। যা দিয়ে
পরীক্ষামূলকভাবে চলছে যান্ত্রিক কার। প্রতি কিউবিক মিটার গ্যাস উৎপাদনে
ব্যয় হচ্ছে মাত্র ১০ টাকা। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বায়োগ্যাস থেকে
রূপান্তরিত মিথেন গ্যাস দিয়ে এ অঞ্চলের জ্বালানি সমস্যা দূর করা সম্ভব বলে
জানিয়েছেন উদ্যোক্তা।
নীলফামারীর প্রত্যন্ত এলাকা ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়িতে আবু সুফিয়ান নামের এক
যুবক নিজ উদ্যোগে স্থাপন করেছেন এ গ্যাস প্লান্ট। তিনি মাত্র পাঁচফুট
ডায়ার একটি কূপ থেকে পাওয়া বায়োগ্যাস ফিল্টার করে প্রতিদিন পাচ্ছেন ১০
কিউবিক মিটার মিথেন গ্যাস। এতে প্রয়োজন হয় মাত্র ১০০ কেজি গোবর। এ গ্যাস
দিয়ে চালানো হচ্ছে প্রাইভেট কার।
আবু সুফিয়ান জানান, ১৫ফুট ডায়ার দু’টি কূপ করা যায় তাহলে প্রতিদিন পাওয়া
যাবে ১৫০ কিউবিক মিটার মিথেন গ্যাস। যা দিয়ে চালানো যাবে ২৫টি থ্রি হুইলার
সিএনজি। কাঁচামাল হিসেবে এতে প্রয়োজন হবে এক হাজার ৫০০ কেজি গোবর, মুরগির
বিষ্ঠা, খড়কুটো, শাক-সব্জির উচ্ছিষ্ট কিংবা কচুরিপানা।
আবু সুফিয়ান বলেন, “প্রতিবেশী দেশ ভারতে এরকম সহস্রাধিক গ্যাস প্লান্ট
রয়েছে। যা সরকারি সহায়তায় সহজভাবে প্লান্টগুলো পরিচালিত হচ্ছে। সরকারের
আর্থিক সহযোগিতা পেলে এদেশেও এ ধরণের গ্যাস প্লান্ট বাড়ানো সম্ভব। এতে দেশে
জ্বালানির ওপর চাপ কমবে। সবার সহযোগিতা পেলে আগামিতে বাণিজ্যিকভাবে এ
গ্যাস উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।”
গয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবনে ফয়সাল মুন জানান, অর্থের অভাবে
আবু সুফিয়ান তার গ্যাস উৎপাদনের প্লান্টের পরিধি বাড়াতে পাড়ছে না। তার মতো
অন্যরা এ কাজে এগিয়ে এলে এ অঞ্চলের পেট্রোলের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি
কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
নীলফামারী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মমতাজুল হক বলেন, আবু
সুফিয়ানের উৎপাদিত মিথেন গ্যাস দিয়ে প্রাইভেট কার চালানো হচ্ছে। তাকে যদি
সহযোগিতা করা হয় তাহলে তার উৎপাদিত গ্যাস দিয়ে এ অঞ্চলের জ্বালানি সমস্যার
অনেকটা সমাধান হবে।
দেশের জ্বালানি সঙ্কট নিরসনে বায়োগ্যাস থেকে মিথেন গ্যাস প্লান্টের বিকল্প নেই।”
এ রকম প্লান্ট স্থাপনে সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন এলকাবাসী।
No comments:
Post a Comment