Pages

Friday, September 7, 2012

অভাবনীয় জয় দিয়ে মিশন শুরু সালমাদের

অভাবনীয় জয় দিয়ে মিশন শুরু সালমাদের
চেনা মাঠে দুর্দান্ত রূপে নিজেদের উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ প্রমিলা ক্রিকেট দল। আজ মিরপুরে অতিথি শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকা প্রমিলা ক্রিকেট দলকে ২ উইকেটে হানিয়ে চমক দেখিয়েছে সালমারা। এক কথায় বলা যায়, অভাবনীয় জয় দিয়ে মিশন শুরু করেছে সালমা বাহিনী।

মিরপুরে উইকেটে আজ প্রথম ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকার মেয়েরা বাংলাদেশের মেয়েদের কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছে। ম্যাচে অতিথি দলের মেয়েদের হারিয়েছে ২ উইকেট ও ৭৫ বল হাতে রেখেই। কোবরা-রুমানার ঘূর্ণি বলের বিষের পর লতার ৩১ রানের ইনিংসে চেপে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। এ যেন বাংলাদেশের মেয়েদের নতুন উত্থানের ধ্বনি। দারুণ এই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখার সঙ্গে আজকের ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার প্রত্যয় অধিনায়কের কণ্ঠে। একই মাঠে কাল দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল। এই ম্যাচে সালমারা জিতে গেলে ৩ ম্যাচের সিরিজ জয় নিশ্চিত হবে তাদের।

মার্চে এশিয়া কাপের পর আর কোনো ম্যাচ হয়নি হোম অব ক্রিকেটে। এতদিন পর উইকেট কেমন আচরণ করবে তা নিয়ে সংশয়ে ছিলেন খোদ কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা। সকালে সালমার টস হারে, আগে ব্যাটিং না বোলিং- তা নিয়ে আর সিদ্ধান্ত নিতে হয়নি বাংলাদেশকে। এমনকি দিনশেষে প্রোটিয়াস অধিনায়কের আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত এসেছে সালমা বাহিনীর পক্ষেই। নিজেদের সেরা অস্ত্র ‘স্পিন’কে কাজে লাগিয়েই মিরপুরের বাইশ গজে দক্ষিণ আফ্রিকার মেয়েদের সমাধি নির্মাণ করেছেন বাংলার মেয়েরা। কোবরা-রুমানার ৩ উইকেটের সঙ্গে সালমা, তাজিয়া দখল করেন ১ উইকেট করে। দলের একমাত্র উইকেট পাওয়া পেসার জাহানারার শিকার ১ উইকেট।

তবে মাত্র ৭৫ রানে বেধে রেখেও ঘাম ঝড়িয়েই জিততে হয়েছে লাল-সবুজ পতাকাধারীদের। দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে প্রথমবারের দ্বৈরথে এমন জয়ে তাই দলের ব্যাটিং নিয়ে সন্তুষ্ট নন সালমা খাতুন। তাই তো ম্যাচ শেষে বলেন, ‘আমরা দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পরে গিয়েছিলাম। তবে ওদের পেস অ্যাটাক নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তা থাকলেও সেটা আমরা ভালোভাবেই সামাল দিতে পেরেছি।’

আর ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার হাতে লতা মন্ডলের কথায়ও অধিনায়কের প্রতিধ্বনি করলেন। তিনি বলেন, ‘বোলাররা আমাদের যে সুযোগ এনে দিয়েছিলেন তাতে আমাদের আরো সহজভাবে জেতা উচিত ছিল। কিন্তু উইকেটের সুবিধা নিয়ে ওদের স্পিনাররাও ভালো বল করেছে। আর দ্রুত দুই উইকেট হারানোটা ঠিক হয়নি আমাদের।’

প্রয়োজন মাত্র ছিল ৭৬ রান। ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব শুধু মাটি আকড়ে ক্রিজে পরে থাকা। কিন্তু সহজ এ কাজটাকেই দলের জন্য কঠিন বানিয়ে দিলেন দুই ওপেনার। সাত রান যোগ করে অধিনায়ক সালমা (২) বিদায় নিলে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর শুকতারা-লতা মিলে প্রাথমিক সে ধাক্কা সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। ম্যাচের অষ্টম ওভারে লং অন দিয়ে বলকে সীমানাছাড়া করে প্রথম বাংলাদেশের ইনিংসের প্রথম বাউন্ডারি উপহার দেন লতা। কিন্তু ততক্ষণে মিরপুরের পিচের সুবিধা আদায় করে নিতে শুরু করেছেন প্রোটিয়াস স্পিনাররা।

ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে সহজ ক্যাচ দিয়ে জীবন ফেরত পাওয়া শুকতারা রহমান (৫) শেষ পর্যন্ত ফিরেছেন সুনিতি লবসারের স্পিনে। তবে প্রান্ত আগলে সাবলীলভাবেই খেলতে থাকেন লতা। লবসারের পরের ওভারে দলকে ৩৯ রানে রেখে চতুর্থ উইকেট হিসেবে বিদায় নেন রুমানা (২)। ক্রিজে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন লতা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরিয়ে সফরকারীদের ম্যাচে ফেরান ইসমাইল। লতা তার ৫৪ বলে ৩১ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন চারটি বাউন্ডারিতে।
 
জয়ের জন্য বাংলাদেশের মেয়েদের তখনো প্রয়োজন আরো ২০ রান। হাতে আছে পাঁচ পাঁচটি উইকেট। কিন্তু ৬০ রানের মাঝে আরো দুই উইকেট ফেলে দিয়ে ম্যাচ জমিয়ে ফেলে প্রোটিয়াস মহিলারা। তবে ৩৭তম ওভারের তৃতীয় বলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন রিতু মনি (১২)। ২ উইকেট ও ৭৫ বল হাতে রেখে শ্বাসরুদ্ধকর এ জয়ের সাক্ষী হয়ে রইলেন অল্পকিছু দর্শক।
 
এর আগে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৫ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে সফরকারিরা। চতুর্থ উইকেটে মারিজান্নে কাপের (১১) সঙ্গে অধিনায়ক মিগনন ডু প্রিজের (২৪) ৩৭ রানের জুটি ধাক্কা সামাল দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বাংলাদেশের মেয়েদের ঘূর্ণিতে ৩৪.৪ ওভারে মাত্র ৭৫ রানেই গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা মহিলা দলের ইনিংস।
 
বাংলাদেশের লতা মন্ডল ম্যাচসেরার পুরস্কার পান।

No comments:

Post a Comment