Pages

Friday, September 7, 2012

প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণে বিটিআরসির তিন প্রস্তাব

প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণে বিটিআরসির তিন প্রস্তাব

দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা সংস্থানের আবেদন জানিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি স্বতন্ত্র কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব দিয়ে বিকল্প তিনটি প্রস্তাব সমন্বিত একটি চিঠি তৈরি করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সমন্বিত চিঠিতি বৃহস্পতিবার চিঠিটি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

সূত্রমতে, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে নিয়োজিত অর্থ উৎক্ষেপণ পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে উঠে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর সে লক্ষেই প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে সুনির্দিষ্ট তিনটি খাত উল্লেখ করে বিকল্প তিনটি প্রস্তাবনা তৈরি করেছে বিটিআরসি।

প্রস্তাব তিনটির প্রথমটিতে সরকারের নিজস্ব উৎস থেকে প্রকল্পের অর্থসংস্থানের ক্ষেত্রে অর্থের জোগান দিতে নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে। দ্বিতীয় প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আর্থিক সংস্থার কাছ থেকে অপেক্ষাকৃত কম সুদে ঋণ (সফট লোন) গ্রহণ এবং সর্বশেষ বিকল্পে সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটের আওতায় অর্থ সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এদিকে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য এরই মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) কাছে কক্ষেপথের ১০২ ডিগ্রি পূর্বে স্লট চেয়েছে বিটিআরসি।

দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণে চলতি বছরের ২৯ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনালের (এসপিআই) সঙ্গে চুক্তি করে বিটিআরসি। চুক্তি অনুযায়ী, সফলভাবে স্যাটেলইট উৎক্ষেপনের জন্য এসপিআইকে দিতে হচ্ছে প্রায় ৯০ কোটি টাকা।

প্রকল্পের পরামর্শক বিটিআরসি’র তত্ত্ববধানে পরামর্শকবিষয়ক প্রকল্প কার্যালয়ে কাজ করছেন বিদেশী পরামর্শক দলের ২৫ জন এবং বাংলাদেশের ছয়জন। চুক্তি স্বাক্ষেরের সময় থেকে তিন বছর পর্যন্ত কাজ করবে এসপিআই।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে দেশের স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভি-স্যাট এবং রেডিওগুলো বিদেশী উপগ্রহ ব্যবহার করছে। বিদেশী স্যাটেলাইট ভাড়া বাবদ প্রতি বছর ৬০ লাখ ডলার ভাড়া পরিশোধ করছে তারা। আগামীতে এ ভাড়া বেড়ে দাঁড়াবে ১ কোটি ১০ লাখ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলারে। নিজস্ব স্যাটেলাইট স্থাপন করা হলে এ টাকা দেশেই রাখা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে স্যাটেলাইটের অব্যবহৃত তরঙ্গ নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, শ্রীলংকাসহ আরো কয়েকটি দেশকে ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেও দারুণ ভূমিকা রাখবে।

No comments:

Post a Comment