মাত্র এক বছরের মাথায় দ্বিগুণ সম্পদের মালিক বনে গেছেন ভারতের
প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। রোববার জি নিউজে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ
করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, বর্তমানে মনমোহনের সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ৭৩ লাখ রুপি অথচ গত বছর এই সম্পদের পরিমাণ ছিল এর অর্ধেক।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, মনমোহন সিং’র মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যই তার চেয়ে
বেশি ধনী। এরমধ্যে অন্যতম হলেন শিল্পমন্ত্রী প্রফুল প্যাটেল ও কৃষিমন্ত্রী
শারদ পাওয়ার। প্রফুল্ল প্যাটেলের সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ৫২ কোটি রুপি।
অন্যদিকে শারদ পাওয়ারের সম্পদের পরিমাণ ২২ কোটি রুপি। এছাড়া শ্রমমন্ত্রী
এমকে আযাগিরিও রয়েছেন এই ধনী মন্ত্রীর তালিকায়। তার মোট সম্পদের পরিমাণ
নয় কোটি রুপি।
তবে ভারতের মন্ত্রিদের মধ্যে সবচেয়ে কম সম্পদের মালিক হচ্ছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী একে এ্যান্তনি। তার সম্পদের মূল্য মাত্র ৫৫ লাখ রুপি।
প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীদের সম্পদের এই হিসাব সরবরাহ করা হয়েছে খোদ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে।
সম্পদের হিসাব দিতে গিয়ে মনমোহন সিং বলেছেন, “তার মালিকানায় রয়েছে নিজের বসতবাড়ি, ব্যাংক ডিপোজিট আর একটি ৮০০ সিসি মারুতি গাড়ি। এছাড়া চন্ডিগড় ও নয়া দিল্লিতে তার দু'টি ফ্ল্যাট রয়েছে যার মূল্য সাত কোটি ২৭ লাখ রুপি। আর দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে ডিপোজিট ও বিনিয়োগের পরিমাণ হচ্ছে তিন কোটি ৪৬ লাখ রুপি। মারুতি গাড়িটির দাম দেখানো হয়েছে ২১ হাজার ৩৩ রুপি।
গত বছর মনমোহনের এ সম্পদের পরিমাণ ছিল পাঁচ কোটি ১১ লাখ রুপি। সেসময় তার
দু’টি ফ্ল্যাটের দাম ঘোষণা করা হয়েছিল এক কোটি ৭৮ লাখ রুপি। অবশ্য সে সময়
কিছু সোনার হিসাবও প্রকাশ করেছিলেন মনমোহন সিং।
তিনি জানিয়েছিলেন, তার মালিকানায় রয়েছে ১৫০.৮০ গ্রাম সোনা যার দাম হবে
দুই লাখ ৭৫ হাজার রুপি। তবে, মজার বিষয় হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন
সিংয়ের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে আসামে যাতে মাত্র ছয় হাজার পাঁচশ
১৫ রুপি ৭৮ পয়সা আছে। আর সম্পদ বেড়ে যাওয়ার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে-
মনমোহনের সম্পদের পরিমাণ বাড়েনি; শুধু দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আগের
সম্পদেরই মূল্যমান বেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক দেশটির অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম। তিনি যৌথ পরিবারে বসবাস করেন এবং তার পরিবারের সম্পদের পরিমাণ ৯৪ কোটি চার লাখ রুপি।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে প্রকাশিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের সম্পদের পরিমাণ এবং এসব সম্পদ অর্জনের উপায় নিয়ে যে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে তা দেশের জনগণের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক কয়লাখনি দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে এবং এ ইস্যুতে দেশটির জাতীয় সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন ভয়াবহ অচলাবস্থার মধ্যদিয়ে মাত্র দু'দিন আগে শেষ হয়েছে তার ওপর এই সম্পদের হিসাব প্রকাশ কিছুটা প্রলেপ লাগাতে পারে।
উল্লেখ্য, শুধু মনমোহন সিং নয় ভারতের অন্য অনেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

No comments:
Post a Comment