প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইছেন- তারাও রক্ষা পাবেন না যদি এমন সরকার ক্ষমতায় আসে।
শনিবার ঢাকায় এক দলীয় অনুষ্ঠানে বিগত বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি
বলেন, ‘‘তাদের সময়ে যে হারে হারে দুর্নীতি হয়েছে তাতে তারা পুরো সিস্টেমই
ধ্বংস করে দিয়েছিল। তাদের সময়ের জুলুম নির্যাতন মানুষ ভুলে যায়নি। এরপর
আসলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সেই সময়ের চিত্র-ওতো মানুষের জানা আছে। তখন যারা
ওই সরকারের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন তারাই এখন সরকারের সব কিছুতে দোষ খোঁজতে
তৎপর। টকশোতে কথা বলে তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। তারা আবার সেই
তত্ত্বাবধায়ক চাইছেন। আবার ওই ধরনের পরিস্থিতি এলে তাদেরওতো রক্ষা হবে
না।’’
শনিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের ‘সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম’ সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে দলের সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ
আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক
এডভোকেট আফজাল হোসেন, উপ-দফতর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস এবং কার্যনির্বাহী
সদস্য এনামুল হক শামীম, ছাত্রলীগ সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ, সাধারণ
সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোল্লা মো. আবু
কাওছার-সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ, শ্রমিক লীগ সভাপতি শুকুর মাহমুদ,
সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী,
সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা,
সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রেজা, মহিলা লীগের সভাপতি আশরাফুন্নেছা মোশারফ,
ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পিনু খান, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার,
সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, তাতী লীগের আহবায়ক এনাজুর রহমান চৌধুরী অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করছি। সরকারের
কার্যক্রমের ফসল জনগণ পাচ্ছে। যেখানে অনিয়ম দেখা দিচ্ছে সেখানেই ব্যবস্থা
নিচ্ছি। সরকার কাউকে ছেড়ে দিচ্ছে না।’’
সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বিগত আওয়ামী লীগ
সরকার ক্ষমতা ছেড়ে আসার সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন ৪৩০০ মেগাওয়াটে রেখে এসেছিলাম।
এবার সাত বছর পর ক্ষমতায় এসে দেখি তা কমে ৩২০০ মেগাওয়াট নেমে এসেছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারতো ইর্মাজেন্সি দিয়ে দেশ চালিয়েছে। সুশীল সমাজের উচ্চ
পর্যায়ের ব্যক্তিরা সরকারে ছিল। তারাওতো দুই বছরে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ
উৎপাদন বাড়াতে পারেনি।’’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বর্তমান সরকারের মেয়াদে ৫১৮৩টি নির্বাচন হয়েছে।
একটি নির্বাচনেওতো কেউ কোনো অভিযোগ করতে পারেনি। গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের
আস্থা ও বিশ্বাস আছে বলেই আমরা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে
পেরেছি।’’
দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার যাতে নিশ্চিত হয়, মানুষ যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ
পায় সেই লক্ষে কাজ করতে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলমান আন্দোলনের প্রসঙ্গে
প্রধানমন্ত্রী বলেণ শিক্ষাঙ্গণে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ
করছে। তিনি, তবে প্রয়োজনে কঠোর কিভাবে হতে হয়, তাও আমাদের জানা আছে। হাজার
হাজার শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে খেলার অধিকার কারো নেই।
No comments:
Post a Comment