Pages

Saturday, September 8, 2012

নুহাশপল্লীতে প্রকাশকদের মিলাদ


 বরেণ্য কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের স্মরণে শুক্রবার দুপুরে নুহাশ পল্লীতে কোরানখানি, মিলাদ, দোয়া ও এতিমদের আপ্যায়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশ সমিতি ও হুমায়ূন আহমেদের প্রকাশকবৃন্দ যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করেন।
 
শুক্রবার সকাল থেকে পিরুজালী ও আশপাশের এলাকা থেকে কয়েকটি এতিমখানা ও মাদ্রাসার দুই শতাধিক এতিমশিশু কোরআন খতম করে। দুপুরে প্রকাশকরা  হুমায়ূন আহমেদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এসময় তারা ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন। পিরুজালী মাহমুদ আলী হাফিজিয়া মাদ্রাসার মাওলানা আরিফুর রহমান মোনাজাত পরিচালনা করেন। পরে তারা এতিম শিশুদের আপ্যায়ন করান।
 
প্রকাশকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অন্য প্রকাশের সত্ত্বাধিকারি মাজহারুল ইসলাম, সময় প্রকাশনার ফরিদ আহমেদ, অনন্যা প্রকাশনীর মনিরুল ইসলাম, কাকলী প্রকাশনীর কেএম নাসির আহমেদ, অবসর প্রকাশনীর আলমগীর রহমান, শিখা প্রকাশনীর নজরুল ইসলাম বাহার, অনুপম প্রকাশনীর মিলন কান্তি নাথ, বাংলা প্রকাশের ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান, পার্ল পাবলিকেশন্সের হাসান জায়েদী, অন্বেষা প্রকাশনের শাহাদাৎ হোসেন, মাওলা প্রকাশনীর আহমেদ মাহমুদল হক ও সুবর্ণ প্রকাশনীর মাহফুজুল হক।
 
নুহাশ পল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, নুহাশ পল্লীতে শুক্রবারও হাজারো হুমায়ূন ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারতের জন্য সকাল আটটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর‌্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।  
 
ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে কবর জিয়ারতের চাইতে নুহাশ পল্লীতে ঘুরে বেড়া আসা লোকদের সংখ্যা বেশি। অনেকেই পরিবার-পরিজন বা বন্ধু-বান্ধব নেয় বেড়াতে আসছেন। বাসে করে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা শিক্ষাসফর ও পিকনিক করার জন্যও নুহাশ পল্লীতে আসছেন। নুহাশ পল্লী কেবলমাত্র হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারতের জন্য খোলা থাকলেও দর্শনার্থীরা তা মানছেন না। এ নিয়ে শুক্রবার সকালে নুহাশ পল্লীর কর্মচারীদের সঙ্গে দর্শনার্থীদের কয়েকদফা কথা কাটাকাটি হয়েছে।
 
পলস্নীর ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, হুমায়ূন আহমেদ স্যারে কবর জিয়ারত করতে আসা লোকজনের জন্য আলাদা রাস্তা ও সীমানা নির্ধারণ করে তারের বেড়া দেয়া হলেও দর্শনার্থীরা পল্লীর কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ করে জোরপূর্বক ভিতরে প্রবেশ করছেন। কারো বাধা তারা মানছেন না।
 
তিনি জানান, দর্শনার্থীদের অনেকে বইরে থেকে খাবার ও পানীয় সামগ্রী এনে ভিতরের পরিবেশ নোংরা করছেন। এখানে পয়ঃনিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকলেও যত্রতত্র প্রশ্রাব পায়খানা করা হচ্ছে। কেউ কেউ এটিকে বিনোদন কেন্দ্র মনে করে প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরতে এসে এর পরিবেশ নষ্ট করছেন। হুমায়ূন আহমেদ স্যারের হাতে লাগানো অনেক গাছের ডালাপালা ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে। ভেষজ উদ্ভিদ বাগানের অনেক ক্ষতি হয়েছে।
 
সাইফুল ইসলাম বুলবুল দর্শনার্থীদের প্রতি আহবান জানান, তারা যেনো কেবলমাত্র হুমায়ূন স্যারের কবর জিয়ারত ছাড়া এবং নির্ধারিত সিমানার বাইরে অন্য কোন স্থানে না যান। এর সৌন্দর্য যেনো নষ্ট না হয়। এটি কোনো বিনোদন কেন্দ্র নয়।

No comments:

Post a Comment