Pages

Tuesday, September 11, 2012

চিরনিদ্রায় বিটিআরসি চেয়ারম্যান জিয়া :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

চিরনিদ্রায় বিটিআরসি চেয়ারম্যান জিয়া :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

বনানীর সামরিক গোরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়া আহমেদ শেলী (৫৮)। দুই দফা জানাযা শেষে সোমবার বিকেলে তাকে দাফন করা হয়।

ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ জোহর অনুষ্ঠিত হয় জিয়া আহমেদের প্রথম নামাযে জানাজা। জানাজায় ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, সাবেক সেনাপ্রধান নূর উদ্দিন খান, হারুনুর রশীদ, পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা, বিটিআরসি, বিটিসিএল, বিএসসিসিএল-এর কর্মকর্তা এবং মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রতিনিধি, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর স্বত্ত্বাধিকারীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বাদ আছর বারিধারা ডিওএইচএস মসজিদে তার দ্বিতীয় দফা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রসঙ্গত, রোববার দিবগত রাতে ইন্তেকাল করেন জিয়া আহমেদ। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র, এক কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীদের রেখে গেছেন।

জিয়া আহমেদের বড় ছেলে আবীর আহমেদ জিয়া জানান, ‘‘মধ্যরাতের পরে বাবার বুকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হলে দ্রুত তাকে রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে তার চিকিৎসা শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা পরে রাত সাড়ে তিনটার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
মরহুমের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী শুক্রবার তার কুলখানি অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে ওই দিন বাদ আছর বারিধারা ডিওএইচএস মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

বিটিআরসির মহাপরিচালক রেজাউল কাদের জানান, ‘‘তিনি রোববার বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত অফিসে ছিলেন। দুটি নির্ধারিত সভায় অংশও নিয়েছিলেন। তাঁকে স্বাভাবিক দেখাচ্ছিল।’’

তিনি ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তিন বছরের জন্য বিটিআরসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পান। মেয়াদ শেষ হলে তাকে আরো এক বছরের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তার নিয়োগের  মেয়াদ ছিল। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময় সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে থাকা জিয়া আহমেদকে অবসরে পাঠানো হলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে তাকে  সেনা বাহিনীতে ফিরিয়ে এনে মেজর জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দেয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ১৯৭৫ সালে কমিশন পাওয়া জিয়া আহমেদ দীর্ঘদিন সিগন্যাল কোরে দায়িত্ব পালন করেন। সেনাবাহিনীর সিগন্যাল ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড স্কুল কমান্ডেন্টসহ সিগন্যাল স্কুলের চিফ ইন্সট্রাকটর পদেও ছিলেন তিনি। ছিলেন এনএসআইএর পরিচালক।

তিনি মোজাম্বিকে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে দায়িত্বও পালন করেছেন। সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়ার পর তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্থায় পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেছেন।

পাশাপাশি তিনি সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

জিয়া আহমেদ দায়িত্ব নেওয়ার টেলিযোগাযোগ আইনের বেশ কিছু সংশোধনীসহ বেশ কয়েকটি নীতিমালায় পরিবর্তন হয়। তাছাড়া দশ সেকেন্ড পালস কার্যকর করা, গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে তার অন্যান্য পদক্ষেপও বেশ প্রশংসা কুড়ায়।

No comments:

Post a Comment