চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড সোনাইছড়ি এলাকার সমুদ্র উপকূলের শিপব্রেকিং
ইয়ার্ডের স্ক্র্যাপ জাহাজের বর্জ ও কালো তেল রোববার সকালে সমুদ্রে ছড়িয়ে
পড়ে। এতে সমুদ্রের বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য মাছ মরে সমুদ্রের উপকূলে ভেসে
উঠছে।
স্থানীয়রা জানান, ইউনাইটেড শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের স্ক্র্যাপ জাহাজের কালো
তেল ও বর্জ্য সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়লে এতে পানি দূষিত হয়ে পড়ে। বিভিন্ন প্রজাতির
মাছ মরে সমুদ্র উপকূলে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসে। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদফতরসহ
সংশিষ্ট কোনো মহল ঘটনাস্থলে আসেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি বিধি অনুযায়ী স্ক্র্যাপ জাহাজের বর্জ ও
কালো তেল অপসরণ করতে অর্থব্যয় বেশী হওয়ায়ে ইয়ার্ড মালিকরা সমুদ্রের পানিতে
তা ফেলে দিলে মালিকদের আর বেশি টাকা ব্যয় করতে হয় না। তাই ইয়ার্ড মালিকেরা
স্ক্র্যাপ জাহাজা ভাঙা নীতিমালার তোয়াক্কা না করে এসব বর্জ ও কালো তেল
সমুদ্রেই ফেলে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী অছিউর আলম সাংবাদিকদের জানান, রোববার বিকেলে জোয়ারের সময়
সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত ইউনাইটেড শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড এলাকায় জোয়ারের পানিতে
কালো তেল ভেসে উঠে। পরে এই তেল উক্ত ইয়ার্ড ছাড়াও তার আশপাশের প্রায়
তিন/চার কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে ইউনাইটেড শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের মালিক মো. মহসিন সাংবাদিকদের
জানান, দূষিত কালো তেল ও বর্জ্য তাদের স্ক্র্যাপ জাহাজ থেকে সাগরে ফেলা
হয়নি। ছয় মাস পূর্বে তার ইয়ার্ডে স্ক্র্যাপ জাহাজ আনা হয়েছিল। তবে সব জাহাজ
কাটা শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে তার ইয়ার্ডে কোনো জাহাজ নেই।
তিনি বলেন, “তার ইয়ার্ডে যে সব কালো তেল দেখা গেছে তা হয়তো কোনো ইয়ার্ড থেকে জাহাজ কাটার সময় সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়েছে।”
চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদফতরের ডেপুটি পরিচালক গোলাম মোহাম্মদ ভূঁইয়া
সাংবাদিকদের জানান, সাগরে কালো তেল ভাসার বিষয়টি তাদের জানা ছিল না।
সাংবাদিকদের থেকে জানার পর পরিবেশ অধিদফতর থেকে একটি তদন্ত টিম ঘটনাস্থলে
পাঠানো হয়েছে।
সীতাকুণ্ড সহকারী কমিশনার (ভূমি) নজরুল ইসলাম ও মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ
সামিউল আলম জানান, বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে প্রশাসনের উর্ধ্বত লোকদের
পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

No comments:
Post a Comment