Pages

Monday, September 10, 2012

বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে রূপগঞ্জ রণক্ষেত্র, আহত দুই শতাধিক :: ঢাকার বাইরে :: বার্তা২৪ ডটনেট

বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে রূপগঞ্জ রণক্ষেত্র, আহত দুই শতাধিক :: ঢাকার বাইরে :: বার্তা২৪ ডটনেট
 মিছিলে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে যুবদল ও ছাত্রদলের সঙ্গে পুলিশের ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকালে উপজেলার ভুলতা এলাকা এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ ২০০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৪০ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে ১২ ছাত্রদলের নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এছাড়া পুলিশ, সাংবাদিক, যুবদল-ছাত্রদল নেতাকর্মীসহ প্রায় দুই শতাধিক আহত হয়েছে।

বিক্ষুব্ধ কর্মীরা অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করেছে। সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট। এসময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

পরে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব এসে ধাওয়া করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছাত্রদল ও যুবদলের সাত কর্মীকে গ্রেফতার করেছে।


পুলিশ, যুবদল-ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে রোববার বিকাল চারটার দিকে ছাত্রদল ও যুবদল ভুলতা-মুড়াপাড়া সড়কে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামান মনির সমর্থিত যুবদল নেতা আশরাফুল হক রিপন, ছাত্রদল নেতা আনোয়ার সাদাত সায়েম ও আমিরুল ইসলাম ইমনে। মিছিলে কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেয়।


মিছিলটি ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এলে পুলিশ ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। এসময় ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এক পর্যায়ে নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশ ও ছাত্রদল-যুবদল নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এ পরিস্থিতি ঘণ্টাব্যাপী অব্যাহত ছিল।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেণে আনতে প্রায় দুশতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৪০ রাউন্ড টিয়ার সেল ছোড়ে। এসময় পুলিশের গুলিতে ছাত্রদল ও যুবদল কর্মী ফারুক মিয়া, রাজু হোসেন, জাহিদ মিয়া, শাহাদৎ হোসেন, আরিফ মিয়া, রাসেল আহমেদ, লিটন মিয়া, রাজিব মিয়া, সাজোয়ার হোসেন, সজিব হোসেন, আমজাদ হোসেন, আকতার হোসেন আহত হন।

এছাড়া পুলিশের লাঠিচার্জে আশরাফুল হক রিপন, আনোয়ার সাদাত সায়েম, আমিরুল ইসলাম ইমনসহ প্রায় দেড় শতাধিক ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

সংঘর্ষ চলাকালে কালেরকন্ঠের রূপগঞ্জ প্রতিনিধি রাসেল আহমেদ, বার্তা২৪ ডটনেট’র জিএম সহিদ, বাংলানিউজ২৪ ডটকমের সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ সময়ের জয়নাল আবেদীন জয় ও আজকালের খবরের রিয়াজ হোসেন আহত হয়েছে।

এদিকে নেতাকর্মীদের লাঠির আঘাত ও ঢিলে রূপগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার আলমগীর হোসেন, উপ-পরিদর্শক মঞ্জুদ্দোহা, আবু বক্কর মাতুববর, আনিসুর রহমান, মোস্তফা কামাল, উপ-সহকারী পরিদর্শক মাজাহারুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, মনির হোসেন, নায়েক সুবেদার মান্নান, খাইরুলসহ ২০ পুলিশ আহত হয়েছে।


সন্ধ্যা ছয়টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব এসে নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে এদের একটি অংশ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বলাইখা এলাকায় রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি গাড়ি ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে তাদের ধাওয়া করে। রাত ৭ টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

এসময় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে ভুলতা এলাকায় মহড়া দেয়। তারা বিএনপির ব্যানার-ফেস্টুন ভাঙচুর করে।

নারায়নগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও থানা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির বলেন, “পুলিশ ছাত্রদল-যুবদলের শান্তিপূর্ণ মিছিলে লাঠিচার্জ করেছে। তারা গণতন্ত্রকে হরণ করেছে। স্থানীয় এমপি গোলাম দস্তগীর গাজীর নির্দেশেই পুলিশ এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের বাধা দিলে দাঁত ভাঙা জবাব দেয়া হবে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা যায়।

নারায়নগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার শেখ নাজমুল আলম বলেন, এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে ২০০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৪০ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে।

No comments:

Post a Comment