Pages

Monday, September 3, 2012

যেকোনো মুহূর্তে পদত্যাগ স্বাস্থ্য উপদেষ্টার :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

যেকোনো মুহূর্তে পদত্যাগ স্বাস্থ্য উপদেষ্টার :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

 যেকোনো মুহূর্তে পদত্যাগ করতে পারেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা. মোদাচ্ছের আলী। সম্প্রতি হলমার্ক গ্রুপের অর্থ কেলেঙ্কারির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা থাকার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় ইমেজ সংকটে পড়েছেন প্রভাবশালী এই উপদেষ্টা। অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমানের পরে এখন তাকে নিয়ে চরম অস্বস্তিতে আছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সরকারের উচ্চমহল ।
 
এ দিকে হলমার্ক গ্রুপ অর্থ কেলেঙ্কারির সঙ্গে মোদাচ্ছের আলীর নাম আসায়  তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে দুদকের কমিশনার মো. বদিউজ্জামান জানান, যত দ্রুত সম্ভব তাকে তলব করা হবে।
 
আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণীরা মনে করেন, সরকারের শেষ সময়ে তীরে এসে তরি না ডুবিয়ে সরকারের ভাবমুর্তি রক্ষায় নিজে থেকেই মোদাচ্ছের আলীর সরে দাঁড়ানো উচিত। প্রভাবশালী উপদেষ্টা হওয়ায় এ ব্যাপারে দলের নেতারা গণমাধ্যমে মুখ খুলতে নারাজ। দু-একদিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা সরে দাঁড়াতে পারেন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। তবে পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর।
 
বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঋণচুক্তি বাতিল করে। প্রকল্পে পরামার্শক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের বিরদ্ধে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমানকে অভিযুক্ত করেছে বিশ্বব্যাংক।
 
আবুল হোসেন সরে দাঁড়ানোর ফলে আলোচনায় আসে ড.মশিউরের পদত্যাগের বিষয়। পরে অর্থ উপদেষ্টা পদত্যাগপত্র জমা দেন, একই সঙ্গে ছুটির আবেদনও করেন তিনি। গণমাধ্যমে কর্মীদের কাছে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলে সরে দাঁড়াবেন। তবে আত্মপক্ষের সমর্থনের সুযোগ চান তিনি।
 
সকারর গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী সাত জনকে উপদেষ্টা নিয়োগ দেন। উপদেষ্টাদের রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা না থাকায় বিভিন্ন সময়ে সরকারের প্রভাবশালী নেতারা সরাসরি সমালোচনা করেন। এছাড়া মন্ত্রীদের সঙ্গে উপদেষ্টাদের বিরোধিতা চলছে শুরু থেকেই। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে নানা কারণে ব্যাপক সমালোচিত হন উপদেষ্টারা।
 
হলমার্ক গ্রুপের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মোদাচ্ছেরের নামও আসে। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, উপদেষ্টার হস্তক্ষেপেই হলমার্ক গ্রুপ সোনালী ব্যাংক থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা সরিয়েছে।
 
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, ‘‘উপদেষ্টারা প্রধানমন্ত্রীর কাছেই দায়বদ্ধ। সম্প্রতি উপনেষ্টাদের নিয়ে যে অভিযোগ উঠছে তা প্রধানমন্ত্রীর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে সরকার ও দলের স্বার্থে দ্রুত উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়া উচিত।”
 
এদিকে শনিবার গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে সোনালী ব্যাংকে রাজনৈতিক পরিচয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন পরিচালক দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। ইতিমধ্যে ওই পরিচালককে নিয়ে একটি দৈনিকে বিস্তারিত খবর বেরিয়েছে। পত্রিকাটি জানিয়েছে, তিনি কয়েকদিন আগে আমেরিকায় চলে গেছেন এবং আর দেশে ফিরছেন না।

No comments:

Post a Comment