Pages

Monday, September 3, 2012

রংপুরে গ্রাহকদের কোটি টাকা নিয়ে রাকাব কর্মকর্তা লাপাত্তা :: অর্থ ও বাণিজ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট

রংপুরে গ্রাহকদের কোটি টাকা নিয়ে রাকাব কর্মকর্তা লাপাত্তা :: অর্থ ও বাণিজ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) রংপুরের মিঠাপুকুর শাখার সিনিয়র অফিসার মতিয়ার রহমান গ্রাহকদের এক কোটিরও বেশি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছেন। তিনি গত ৩১ মে থেকে অফিসে যাচ্ছেন না।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার অফিসে না আসার বিষয়ে তদন্ত করে ডিজিএমকে জানালেও এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ নিয়ে সেখানকার ঋণ গ্রহীতারা এখন চরম বিপাকে পড়ে গেছেন। ব্যাংকের ভাবমর্যাদা চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে।

রাকাব সূত্র জানায়, মিঠাপুকুর শাখায় প্রায় ১৬০ জন সিসি গ্রহীতার কাছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়। এটি সুপারভাইজড করতেন ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান। ব্যাংক সূত্র জানায়, ৫০ থেকে ৫৫ জন সিসি ঋণগ্রহীতা বিভিন্ন সময়ে এক কোটিরও বেশি  ঋণ ও সুদের টাকা পরিশোধ করলে মতিয়ার রহমান কৌশলে গ্রাহকদের রশিদ দেয়া থেকে বিরত থাকেন এবং সেই টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কাজে লাগান।

এর মধ্যে সিসি লোন গ্রহীতা আব্দুল হাকিমের এক লাখ ৫০ হাজার, শাহজাহানের পাঁচ লাখ, মিজানুর রহমান রিন্টুর ১১ লাখ, জিয়াউল ইসলাম রিপনের আট লাখ, রেজাউল কবির টিটুর চার লাখ, ছোট হযরতপুরের মোজাম্মেলের ৮০ হাজার, টুটুলের চার লাখ, কামরুল ইসলামের দুই লাখ, কাটারী এলাকার আব্দুল বাতেনের ১৯ হাজার ৩০০, লতিবপুরের আমজাদ হোসেনের ২৫ হাজারসহ প্রায় এক কোটি টাকা। এসব টাকা তিনি ব্যাংকে জমা না দিয়ে জমি ক্রয়, ইটভাটার শেয়ার, আলুর ব্যবসা, বাড়ি বানানো এবং সুদের ব্যবসায় খাটান। বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়লে ঋণগ্রহীতারা ‘হয় টাকা নয় রশিদের জন্য’ চাপ সৃষ্টি করলে সুচতুর মতিয়ার রহমান চলতি বছর ৩১ মে ব্যাংক থেকে লাপাত্তা হয়ে যান। গত ২ সেপ্টেম্বর রোববার পর্যন্ত তিনি আর ব্যাংকে যাননি। ব্যাংকে না তিনি অসুস্থ মর্মে আবেদন দিয়ে ব্যাংকের কাছে আনলিভ ছুটি দাবি করেন।

এভাবে আনঅথরাইজড এ্যবসেন্স’র হওয়ার কারণে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক আমিনুল হক বিষয়টি তদন্তের জন্য ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা রশিদুন্নবী লেবু ও নুরুল আমীনকে দায়িত্ব দেন। তদন্ত কমিটি মতিয়ার রহমানের রংপুর মহানগরীর মিস্ত্রিপাড়া জামতলা মসজিদ এলাকার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাননি। সেখান থেকে গ্রামের বাড়ি উপজেলার মোমিনপুরে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। গ্রাহকদের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজে নিয়ে অন্য কাজে লাগানো, টাকার জন্য মতিয়ারের ওপর গ্রাহকদের চাপ বিষয়টি সরেজমিনে অবহিত হন তদন্ত কর্মকর্তারা।

বিষয়টি জানিয়ে একটি লিখিত তদন্ত রিপোর্ট পেশ করা হয় ব্যবস্থাপকের কাছে। ব্যবস্থাপক তদন্ত রিপোর্টসহ এ বিষয়ে ‘টাকার বিষয়েই আনঅথরাইজড এ্যবসেন্স উল্লেখ করে ডিজিএম’র কাছে লিখিত চিঠি পাঠান। তবে ডিজিএম এখন পর্যন্ত মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বরং তাকে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেয়ার জন্য সুযোগ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ ওঠেছে, শাখা ব্যবস্থাপক আমিনুল হকও আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে তাকে টাকা পরিশোধের সুযোগ করে দিয়েছেন। এজন্য তিনি বিষয়টি অভ্যমন্তরীণ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে অবহিত হওয়া সত্ত্বে ঋণগ্রহীতাদের কাছে লিখিতভাবে ঋণ এবং সুদের টাকা পরিশোধের জন্য কোনো চাপ দেননি। বরং তাকে আনঅথরাইজড এ্যাবসেন্স ছুটি ‘আনলিভ’ পাইয়ে দেয়ার জন্য চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মতিয়ার রহমান গ্রাহকদের সাথে দেখা করে টাকা ফেরত দেয়ার বিভিন্ন তারিখ দিচ্ছেন। এমনকি এই বিপুল পরিমাণ টাকা তিনি সুদের ওপর নিয়েছেন বলেও বলে বেড়াচ্ছেন।

মতিয়ার রহমানের ঘনিষ্ট  সূত্র জানায়, এই বিপুল পরিমাণ টাকা পরিশোধের জন্য তিনি গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের কাছ থেকে সময় নিয়ে এসেছেন। তিনি টাকা জোগাড় করার জন্য তার জমি ও বাড়ি বিক্রির চেষ্টা করছেন।  এছাড়াও টাকার বিপরীতে  মিজানুর রহমান রিন্টুকে তার একটি ফ্লাট দিয়ে দেয়ার কথাও বলছেন।

শাখা ব্যবস্থাপক আমিনুল হক বার্তা২৪ ডটনেটকে জানান, “বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর আমি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করি। রিপোর্ট পাওয়ার পর বিষয়টি ডিজিএমকে জানিয়েছি। সেখান থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

ডিজিএম মহিদুল হক বার্তা২৪ ডটনেটকে জানান, এ বিষয়ে টাকার কারণে আনঅথরাইজড এ্যবসেন্সে বিষয়ে শাখা ব্যবস্থাপকের পত্র আমি  পেয়েছি।” এরপর কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কোনো উত্তন দেননি।

তদন্ত কর্মকর্তা রশিদুন্নবী বার্তা২৪ ডটনেটকে জানান, “আমরা তদন্তকালে মতিয়ার মেরুদণ্ডের ব্যথাজনিত বেশ কিছু কাগজপত্র দেখিয়েছেন। রিপোর্ট শাখা ব্যবস্থাপককে দেয়া হয়েছে।” এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

এদিকে এ ঘটনার পর রাকাবের ওই শাখার ভাবমুর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। গ্রাহকরা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন। তারা কোনো কুল কিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না।

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. শাহ নেওয়াজ আলী বার্তা২৪ ডটনেটকে জানান, বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যপারে মতিয়ার রহমানের সঙ্গে বারবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

No comments:

Post a Comment