Pages

Monday, September 10, 2012

গণতান্ত্রিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চায় আমেরিকা: মজিনা :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

গণতান্ত্রিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চায় আমেরিকা: মজিনা :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

 আমেরিকা আর বাংলাদেশ অংশীদারিত্বের আওতায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ সবগুলোই একটি শান্তিময়, নিরাপদ, সমৃদ্ধ, সুস্থ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রসারের প্রতি সচেষ্ট। এমন একটি বাংলাদেশ আমেরিকার জনগণ, দক্ষিণ এশিয়ার ও সর্বোপরি স্বয়ং বাংলাদেশের স্বার্থসংশি¬ষ্ট বলে আমার বিশ্বাস।

আমেরিকার সরকার কর্তৃক সে দেশের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ম্যাকগভার্ন -ডোল ইন্টারন্যাশনাল ফুড ফর এডুকেশন অ্যান্ড চাইল্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রাম (ম্যাকগভার্ন-ডোল প্রোগ্রাম)-এর মাধ্যমে সাড়ে দশ হাজার মেট্রিক টন গম হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা এসব কথা বলেন।

রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গাস্থ সাইলো প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের স্কুল ফিডিং ও পুষ্টি কর্মসূচির সহায়তায় প্রদত্ত ১০,৪৪০ মেট্রিক টন গমের আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন এমপি, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির বাংলাদেশ কান্ট্রি পরিচালক ক্রিস্টা রাডের বক্তৃতা করেন।

বক্তৃতায় ড্যান মজিনা বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে আমেরিকার অংশীদারিত্ব ইউএসডিএ ম্যাকগোভার্ন-ডোল স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, প্রেসিডেন্ট ওবামার ফিড দ্য ফিউচার উদ্যোগ, ও আমাদের অন্যান্য অনেক অংশীদারিত্বমূলক কর্মসূচি যেগুলো উন্নত শাসনব্যবস্থার প্রসার, প্রাথমিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রসার, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সামর্থ্য বৃদ্ধি ও দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে।”

তিনি বলেন, “এ সবগুলোই একটি শান্তিময়, নিরাপদ, সমৃদ্ধ, সুস্থ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রসারের প্রতি সচেষ্ট। এমন একটি বাংলাদেশ, আমেরিকার জনগণ, দক্ষিণ এশিয়ার ও সর্বোপরি স্বয়ং বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লি¬ষ্ট বলে আমার বিশ্বাস।”

মজিনা বলেন, “এই গম বাংলাদেশের শিশুদের জন্য আমেরিকার জনগণের উপহার। আর বাংলাদেশে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত হিসেবে এই অনুদান প্রদান করে আমি খুশি।  তবে আমাদের আজকের এই উদযাপন উপলক্ষ্য আমেরিকা থেকে আনা গমের এই পাহাড় প্রমাণ অনুদান অপেক্ষা অনেক বড়।”

সিনেটর জর্জ ম্যাকগভার্ন এবং সিনেটর রবার্ট ডোল- এর সম্মানে ম্যাকগভার্ন-ডোল প্রোগ্রাম নামকরণ করা হয়।

আমেরিকার এই দু’জন নেতা বিশ্বব্যাপী বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের খাবার ও শিশুদের পুষ্টির বিষয়ে আমেরিকার অঙ্গীকারকে উৎসাহিত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র শিশুদের শিক্ষা, উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তায় সহায়তা করা হয়। ইউএসডিএ শিক্ষার বিশ্বজনীনতায় বিশ্বাসী স্বল্প আয়ের এবং খাদ্য ঘাটতির দেশগুলোতে বিদ্যালয়ে শিশুদের খাবার এবং মাতৃত্ব ও শিশু পুষ্টি প্রকল্পের জন্য আমেরিকা কৃষি পণ্যের অনুদানের পাশাপাশি আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে থাকে।

ম্যাকগভার্ন-ডোল কর্মসূচি গত দুই অর্থ বছরে (২০১১-২০১২) বিশ্বব্যাপী ৪০ কোটি ডলারের বেশি বরাদ্দ দিয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে তিন অর্থ বছরে (২০১১-২০১৩) তিন কোটি ডলারের অঙ্গীকার করা হয়েছে যা একক কোনো একটি দেশে সর্বাধিক বরাদ্দের অঙ্গীকার।

গত এক দশকে এ দেশের শিশুদের পুষ্টির উন্নতিতে ও শিশুদেরকে বিদ্যালয়ে পাঠাতে আভিবাবকদেকে উৎসাহিত করতে ইউএসডিএ ম্যাকগভার্ন-ডোল কর্মসূচি বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বে কাজ করছে।

No comments:

Post a Comment