তিন দিনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর কাঁচপুর ও মিরপুরের তুরাগ নদীর তীরে বালু ব্যবসা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে মঙ্গলবার বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
একইসঙ্গে আদালত আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নদীর তীরের বালু অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এসব আদেশ বাস্তবায়ন করে চার সপ্তাহের মধ্যে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিষয়টির পরবর্তী শুনানির জন্য ৯ ডিসেম্বর কার্যতালিকায় থাকবে।
এছাড়াও শীতলক্ষ্যা নদী দখল করে কাঁচপুর সেতু এলাকায় এবং তুরাগ নদী দখল করে মিরপুরের সিন্নিরটেকে সব ধরনের বালু ব্যবসা বন্ধে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। একইসঙ্গে নদী তীরের বালু অপসারণের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
নৌ-পরিবহন সচিব, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদফতরের ডিজি, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের ডিসি, বিআইডব্লিউটিএ-র পরিচালক (পরিকল্পনা), পরিচালক (বন্দর ও ট্রাফিক), প্রধান প্রকৌশলী ও উপ-পরিচালক (নারায়ণগঞ্জ), ঢাকা নদী বন্দরের জ্যেষ্ঠ উপ-পরিচালক, নারায়ণগঞ্জের এসপি, মিরপুর জোনের পুলিশের উপ-কমিশনার, মিরপুর ও নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।
সোমবার হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ এবং সোসাইটি অব জাস্টিসের পক্ষে এ রিট আবেদনটি করা হয়।
একটি জাতীয় পত্রিকায় ৩১ আগস্ট প্রকাশিত ‘কাঁচপুর সেতু এলাকায় নতুন করে ১৭ বিঘা জায়গা দখল’ শীর্ষক প্রতিবেদন রিট আবেদনে যুক্ত করা হয়।
ওই প্রতিবেদেন বলা হয়, ‘‘আইনকানুনের তোয়াক্কা না করে নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে দখল চলছেই। গত প্রায় দুই মাসে কাঁচপুর সেতুসংলগ্ন এলাকায় নদীর অন্তত ১৭ বিঘা জায়গা বাঁধ তৈরি করে দখল করা হয়েছে। সেখানে বালু-পাথর-মাটির অবৈধ ব্যবসাও অব্যাহত রয়েছে।’’
No comments:
Post a Comment