Pages

Friday, November 9, 2012

কর্মসূচি জামায়াতের, চাঙ্গা আওয়ামী লীগ



কর্মসূচি জামায়াতের, চাঙ্গা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পরই অনেকটাই দিবস ভিত্তিক কর্মসূচি পালন করে আসছিল। একাধিক বার দল গোছানো এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও বিরোধী দলের অপ্রচার জনগণের সামনে তুলে ধরতে কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হলে তা আতুর ঘর পার হতে পারেনি।

মানবতাবিরোধী অপরাধে আটক জামায়াত নেতাদের মুক্তির দাবিতে জামায়াতের কর্মসূচি ঘোষণা এবং গত সোম ও মঙ্গলবার ঢাকাসহ সারাদেশে জামায়াত তাণ্ডব চালায়। জামায়াতের এ তাণ্ডব ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের এ কর্মসূচি চলবে বলে দলীয় সূত্র জানায়।

আওয়ামী লীগ নেতাদের মতে, ঘুমিয়ে থাকা আওয়ামী লীগকে জাগিয়ে দিয়েছে জামায়াত। জামায়াত-বিএনপি কে কোনো ভাবেই রাজনৈতিক মাঠ দখলে নিতে দিবে না। তাছাড়া যেখানেই জামায়াত-শিবির সেখানেই প্রতিরোধের ঘোষণাও দিয়েছে সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বন্ধ এবং দলের নয় শীর্ষ নেতার মুক্তি দাবিতে সোম ও মঙ্গলবার ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভরত জামায়াতকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। মহাজোট সরকার গঠনের পর এটাই জামায়াতের প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে রাজপথে নামা।

মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধারনমন্ডীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। তিনি ওই বৈঠক শেষে তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা দেন। কর্মসূচির মধ্যে ছিল বুধবার ছাত্রলীগের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ। এছাড়াও ১০ নভেম্বর রাজধানীতের বিক্ষোভ সমাবেশ ও ১১ নভেম্বর বর্ধিত সভায় আগামীর কর্মসূচি ঘোষণা করবে। শুক্রবার ও শনিবার বিকেলে সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল বের করবে যুবলীগ, শুক্রবার ও সোমবার জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ করবে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। ছাত্রলীগ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জামায়াত-শিবির প্রতিরোধে সজাগ থাকবে, সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচি। অন্যান্য সহযোগী সংগঠনগুলোও জামায়াত-শিবিরের নাশকতা ঠেকাতে মাঠে নামার ঘোষণা দিবে দু-একদিনের মধ্যেই।

ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোকে এত সক্রিয় হতে দেখা যায়নি। অনেকটাই দিবস ভিত্তিক ছিল দলীয় কর্মসূচি। মাঝে মধ্যে বিশেষ বর্ধিত সভা, কার্যকরি কমিটি ঘরোয়া সভার আয়োজন এবং হঠাৎ করে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন। তাছাড়া দলীয় ভাবে ধারাবাহিক বা সরকারের উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে কর্মসূচির ঘোষণা দিলেও পালন করতে তেমনটা দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগ নেতাদের মতেই, ঘুমন্ত আওয়ামী লীগ এখন জেগে উঠেছে। আগের অনেক সক্রিয় ও সজাগ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। কোনোভাবেই জামায়াত-শিবিরকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দিবে না। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাজপথে জামায়াত-শিবিরকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে। যেখানেই জামায়াত শিবির সেখানেই প্রতিরোধ করা হবে জানান ছাত্রলীগ নেতারা।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই স্বাধীনতা বিরোধী চক্র জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্য কর্মকাণ্ড বরদাসত করবে না। তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগ মাঠে থাকবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, আওয়ামী লীগ গণ মানুষের রাজনীতি করে। দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে প্রশাসনকে সহায়তা করতে সরকারি দল হিসেবে আমাদের কর্তব্য রয়েছে।

তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াত নেতাদের মুক্তি এবং বিচার বন্ধের হুমকিতে তারা (জামায়াত) মড়ন কামড় দিয়ে মাঠে নেমেছে। তারা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধাপরাধীর বিচার এবং জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে হবে।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও এক কেন্দ্রীয় নেতা বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে জামায়াত শিবির হঠাৎ তাণ্ডব চালিয়ে গর্তে চলে যায়। আবার তারা দুইদিন দেশব্যাপী তাণ্ডবলীলা চালিয়ে ঘুমন্ত আওয়ামী লীগকে জাগিয়ে দিয়েছে।

তারা বলেন, যুদ্ধাপরাধীর বিচার বন্ধে প্রকাশ্যে যুদ্ধ ঘোষণা এবং তাণ্ডবলীলা চালানোর পর সরকারি দল হিসেবে আওয়ামী লীগ আর ঘরে বসে থাকতে পারে না। রাজপথে জামায়াত-শিবিরকে প্রতিহত করা হবে।

যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, সরকার ও প্রশাসনকে সহযোগিতা দিতে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির পাশাপাশি আমাদের নিয়মিত কর্মসূচিও থাকবে। রাজপথে জামায়াত-শিবির ও তাদের দোসরদের ছাড় দেয়া হবে না।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং যুদ্ধাপরাধীদের রার যে কোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মসূচি থাকবে।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম বলেন, গত কয়েকদিনে জামায়াত-শিবির যে তান্ডব দেখিয়েছে, তা দেখে বোঝা যায় একাত্তরে তারা কেমন ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিলো। আমি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ছাত্রলীগের প থেকে সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের যেখানেই জামায়াত-শিবির সেখানেই গণধোলাইয়ের নির্দেশ দিচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, সামনে আমাদের বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। এ স্বাধীনতার মাসে তাদের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে গোখরা সাপের মতো ফনা তুলতে পারে। যে কারণে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ যেখানেই জামায়াত-শিবিরকে দেখবে সেখানেই প্রতিরোধ করতে।
জামায়াত-শিবিরে তানণ্ডবের পর আওয়ামী লীগের এবং সহযোগী সংগঠনের এ রকম ধারাবাহিক কর্মসূচি এটাই প্রথম বলে জানিয়েছে দলীয় নেতাকর্মীরা। এতদিন নিজ নিজ আখের খোছাতে ব্যস্ত থাকলেও এখন রাজপথে সক্রিয় হচ্ছে তারা।

No comments:

Post a Comment