আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সরকার জামায়াতে ইসলামীকে কাছে টানার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত দলীয় সম্প্রীতি সমাবেশে তিনি এ এসব কথা বলেন।
খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘‘৮৬ সালে জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে এরশাদ নির্বাচন করেছেন। আবার ৯৬ সালে তত্তাবধায়ক সরকারের দাবিতে জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করেছিল আওয়ামী লীগ।”
তিনি আরো বলেন, “সে সময় নিজামীকে পাশে বসিয়ে হাসিনা আমাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন কর্মসূচি দিয়েছেন। তখন তারা যুদ্ধাপরাধী ছিল না? সেই সময়ের মতো এবারও নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতকে কাছে টানার চেষ্টা করছে সরকার।”
জামায়াত এখন সন্ত্রস্ত উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, “সরকার চেষ্টা করছে জামায়াতের সঙ্গে আপস করে তাদের নিয়ে কীভাবে নির্বাচন করা যায়। সে কারণেই তাদের ওপর নির্যাতন বাড়িয়ে দিয়েছে।’’
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘‘আমরাও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। তবে সে বিচার হতে হবে নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের।’’
জনগণের টাকা লুটপাট করে তারা এখন মোটাতাজা হচ্ছে মন্তব্য করে খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের নৌকার তলা ফুটো হয়ে গেছে। পালাতে পারবেন না।’’
এ সময় রামুতে ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সহায়তা দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, “রামুর ঘটনায় জড়িতদের বিচার না করলে আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাদের বিচার করা হবে। দেশে তৈরি করা সম্ভব না হলে প্রয়োজনে বিদেশ থেকে মূর্তি এনে ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ বিহারে স্থাপন করা হবে।”
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করারও আহবান জানান তিনি।
রামু উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহমদুল হকের সভাপতিত্বে সম্প্রীতি সমাবেশে আরো বক্তৃতা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আববাস, জামায়াতের শামসুল ইসলাম এমপি, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতা ড. সুকোমল বড়ুয়া, শুদ্ধানন্দ মহাথেরো প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ফেসবুকে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে গত ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও চট্টগ্রামের পটিয়ায় বৌদ্ধ বসতি ও মন্দিরে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় স্থানীয় উগ্রপন্থীরা।
এ ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করলেও এর ৪১ দিন পরে রামুর বৌদ্ধপল্লী পরিদর্শন করতে আসেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
এ সময় সরকারের বিভিন্ন অনিয়ম, ডেসটিনি, হল-মার্কসহ নানা দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন তিনি।
এর আগে কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক জনসভায় বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, সরকার বিএনপিকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করছে। চট্টগ্রাম শহর থেকে কক্সবাজারের রামুতে যাওয়ার পথে শনিবার বেলা দেড়টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল মাঠে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় তিনি বক্তব্য দেন।
শুক্রবার বিকেলে রামুর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন বিএনপি চেয়ারপারসন। যাত্রাপথে ফেনী জেলা সার্কিট হাউজে বিরতি দিয়ে রাতে চট্টগ্রামে সার্কিট হাউজে অবস্থান করেন তিনি।
খালেদা জিয়ার ফেনী ত্যাগের পর যুবদলের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোণ ঘটে। এতে পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়।
No comments:
Post a Comment