পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে আরো সময় পেলো সরকার
নিম্ন আদালতের বিচারকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত জুডিশিয়াল সার্ভিস
পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে আরো এক মাস সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগামী ৩
ডিসেম্বর বাস্তবায়ন বিষয়ে আদালতকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
রোববার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ এ আদেশ দেয়।
গত ১ অক্টোবর আপিল বিভাগ এক মাসের মধ্যে অধস্তন আদালতের বিচারকদের
বেতন-ভাতা বৃদ্ধি-সংক্রান্ত জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের সুপারিশ
বাস্তবায়ন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আদেশ দেয়। একই সঙ্গে ৪ নভেম্বর শুনানির
তারিখ ধার্য করা হয়েছিল।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপক্ষ অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১ নভেম্বরের একটি গেজেট
আদালতে আজ উপস্থাপন করে। এতে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বিচারিক ভাতা ৩০-এর
পরিবর্তে ৫০ শতাংশ হারে, পোশাকভাতা বছরপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা ও আপ্যায়ন
ভাতা বৃদ্ধির বিষয় উল্লেখ আছে।
এর আগে গত ১৯ জুলাই এ-সংক্রান্ত আদেশ বাস্তবায়ন করে ১ অক্টোবর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে অর্থ সচিবকে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।
বিচার বিভাগ পৃথকীকরন সংক্রান্ত ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার রায়ে
বিচারকদের পৃথক বেতন কাঠামো নির্ধারণের জন্যে জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন
গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিমকোর্ট। এ নির্দেশনার আলোকে ২০০৭ সালের ১৭ জুন
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন গঠন করা হয়। এ কমিশন ২০০৮ সালের ১৩
এপ্রিল বিচারকদের আলাদা বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নের জন্যে
সরকারকে সুপারিশ করে। কমিশন একই বছরের ২ জুন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের
জন্য আলাদা বেতন স্কেল ও ভাতার বিষয়ে সুপারিশ করে।
২০০৯ সালে গঠিত এই পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য আদালত এর আগে আইন
সচিব, অর্থ সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছিল। এই
আদেশ এসেছিল বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সম্পর্কিত মাজদার হোসেন মামলায়
সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের ধারাবাহিকতায়। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ আদেশ বাস্তবায়নে
ধারবাহিকভাবে সময় নিয়ে আসছে।
রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম রোববার একটি গেজেট আদালতে জমা
দেন। এতে জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের সুপারিশ অনুসারে বিচারিক ভাতা মূল
বেতনের ৩০ শতাংশের পরিবর্তে ৫০ শতাংশ করার কথা বলা হয়। এছাড়া বার্ষিক ৫
হাজার টাকা পোশাক ভাতা এবং আপ্যায়ন ও চৌকি ভাতার কথাও বলা হয় এতে।
ঢাকা মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল শহরে মূল
বেতনের শতকরা ৬৫ ভাগ, অন্যান্য জেলার জন্য ৫৫ ভাগ এবং চৌকি আদালতগুলোর জন্য
৫০ ভাগ বাসা ভাড়া দেয়ার কথা বলা হয় কমিশনের সুপারিশে।
এছাড়া আপ্যায়ন ভাতা, গৃহকর্মী ভাতা, পোশাক ভাতা, ট্রান্সপোর্ট সুবিধা এবং
চৌকি ভাতার কথা উল্লেখ করে কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, অন্য সরকারি
চাকরিজীবীরা যেসব সুযোগ সুবিধা পান- বিচারিক সদস্যদের জন্যও তা প্রযোজ্য
হবে।
No comments:
Post a Comment