Pages

Monday, November 5, 2012

জেলহত্যা মামলার আপিল শুনানি ১১ ডিসেম্বর

জেলহত্যা মামলার আপিল শুনানি ১১ ডিসেম্বর
 জেল খানায় জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলায় হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানির জন্য ১১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছে আপিল বিভাগ।
 
রোববার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ শুনানির এই দিন ধার্য করেন।
 
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম রাষ্ট্রপক্ষে শুনানির দিন ধার্য করতে আদালতে আবেদন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।
পরে আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, আপিল বিভাগ এই মামলার চূড়ান্ত শুনানির জন্য আগামী ১১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছে। আশা করি, ওইদিন আমরা শুনানি করতে পারবো।
 
গত ৩১ অক্টোবর ২৫ পৃষ্ঠার সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করে এটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে জমা দেন আইনজীবী আনিসুল হক।
 
এরপর ১ নভেম্বর এটর্নি জেনারেলের পক্ষে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড সুফিয়া খাতুন সুপ্রিমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ সারসংক্ষেপ জমা দেন।
 
উল্লেখ্য ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে জেল হত্যা মামলার কার্যক্রম শুরু করে। এরপর বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে অর্থাৎ ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। আদালত তার রায়ে ২০ আসামির মধ্যে ১৫ সাবেক সেনা কর্মকর্তার শাস্তি এবং অপর ৫ জনকে খালাস দেয়। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে পলাতক তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ১২ জনের যাবজ্জীবন দেয়া হয়।
 
আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হচ্ছেন রিসালদার মোসলেম উদ্দিন ওরফে হিরন খান, দফাদার মারফত আলী শাহ এবং এলডি দফাদার মোঃ আবুল হাসেম মৃধা।
 
অন্যদিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হচ্ছেন কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান, কর্নেল (অব.) সৈয়দ শাহরিয়ার রশীদ, মেজর (অব.) বজলুল হুদা, লে. কর্নেল খনদকার আবদুর রশীদ, লে. কর্নেল (অব.) শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল (অব.) এমএইচএমবি নূর চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব.) একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ, লে. কর্নেল (অব.) এএম রাশেদ চৌধুরী, মেজর (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) আহাম্মদ শরিফুল হোসেন, ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদ, ক্যাপ্টেন (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) মোঃ কিসমত হোসেন এবং ক্যাপ্টেন (অব.) নাজমুল হোসেন আনসার।
 
বিএনপি নেতা মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমান, জাতীয় পার্টি নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক মন্ত্রী মরহুম তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, নূরুল ইসলাম মঞ্জুর এবং মেজর (অব.) খায়রুজ্জামানকে বেকুসুর খালাস দেয়া হয়।
 
তবে গত বছরের ২৮ আগস্ট হাইকোর্ট রিসালদার মোসলেমউদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে দফাদার মারফত আলী শাহ ও এলডি দফাদার মোঃ আবুল হাসেম মৃধা এবং যাজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত অপর চারজন লে. কর্নেল, সৈয়দ ফারুক রহমান, কর্নেল (অব.) সৈয়দ শাহরিয়ার রশীদ, মেজর (অব.) বজলুল হুদা ও লে. কর্নেল (অব.) একেএম মহিউদ্দিন আহমেদকে মামলা থেকে খালাস দেয় আদালত।
যদিও জেল হত্যা মামলায় হাইকোর্টে অব্যাহতি পাওয়া চারজন সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা ও এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদের ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।
 
হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আপিলের আবেদন (লিভ টু আপিল) করে সরকার।

No comments:

Post a Comment