জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব ঠেকাতে রাজপথে একট্রা হচ্ছে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল, বামপন্থী প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল এবং স্বাধীনতা পক্ষের সকল শক্তি চিহ্ণিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকবে।
আওয়ামী লীগ দলীয় সুত্র জানিয়েছে, স্বাধীনতা পক্ষের সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্রিত করে জোটের পরিধি বাড়ানো হতে পারে। জামায়াত-শিবিরকে এখনই প্রতিরোধ না করতে পারলে দেশের মধ্যে অরাজকতার সৃষ্টি হবে। পরে সামাল দেয়া সম্ভব নাও হতে পারেন ধারণা থেকে জোটের পরিধি বাড়ানো সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল। আগামী ১৬ নভেম্বর এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
অন্যদিকে দুই জোটের বাইরে থাকা বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আপাতত জোট গঠন না করলেও স্ব স্ব দলের পক্ষ থেকে জামায়াত-শিবির বিরোধী এবং দ্রুত যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন করার অবস্থানে রাজপথে সহঅবস্থানে থাকবে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো।
মানবতাবিরোধী অপরাধে আটক জামায়াত নেতাদের মুক্তির দাবিতে জামায়াতের কর্মসূচি ঘোষণা এবং গত সোম ও মঙ্গলবার ঢাকাসহ সারাদেশে জামায়াত তাণ্ডব চালায়। জামায়াতের এ তাণ্ডব ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন ধারাবাহিক কর্মসূচি নিয়ে ইতোমধ্যে রাজপথে নেমেছে। দলটি ঘোষণা করেছে যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তারা মাঠ ছাড়বে না। অন্যদিকে স্বাধীনতা বিরোধী ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য জামায়াত-শিবিরকে ঠেকাতে স্বাধীনতা পক্ষের সকল শক্তিকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, আসুন স্বাধীনতা পক্ষের সকল শক্তি ঐক্যবদ্ধ হই। যুদ্ধাপরাধীর শেষ আমাদের শুরু।
আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন গুলোও ইতোমধ্যে আটঘাট বেধে নেমে পড়েছে জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব ঠেকাতে।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগরে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “যুদ্ধাপরাধীর বিচার বন্ধে জামায়াত-শিবির যে নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছে তা প্রতিরোধে স্বাধীনতা পক্ষের সকল শক্তি একত্রিত হওয়া প্রয়োজন।”
জোটের বাইরে থাকা বামপন্থী দলগুলোকে একত্রিত করা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আগামী ১৬ নভেম্বর দলের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।” তিনি জানান, আমরা সব সময়ই চাই স্বাধীনতা পক্ষের সকল শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশবিরোধী শক্তিকে মোকাবেলা এবং যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন করে অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ে তুলি।
১৪ দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এখনো আওয়ামী লীগ নেতাদের কোনো কথা হয়নি। তবে আওয়ামী লীগের বাইরে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, গণতন্ত্রী পার্টি, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল,গণআজাদী লীগ আজ অথবা কাল আলাদা বৈঠক করবে বলে তাদের দলীয় সুত্র জানিয়েছে।এর বাইরে গণঐক্য, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি(সিপিবি), বাসদ সহ স্বাধীনতা চেতনায় বিশ্বাসী সকল রাজনৈতিক দল জামায়াত-শিবিরকে প্রতিহত এবং যুদ্ধাপরাধীর বিচার দ্রুত করার দাবিতে মাঠে নামার পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে।
সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম জানান, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যখন অগ্রসর হচ্ছে এবং ২-১ জন যুদ্ধাপরাধীর ব্যাপারে রায় ঘোষণার তারিখ যতোই নিকটবর্তী হচ্ছে, ততোই জামায়াত-শিবির মরিয়া হয়ে এ আক্রমণ শুরু করেছে। আমরা জামায়াত-শিবিরের রাষ্ট্রদ্রোহী এ হামলা কঠোর হাতে মোকাবিলার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।
বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা করে জামায়াত-শিবির চক্র দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এদের ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কারণ তারা স্বাধীনতার চেতনা মুছে ফেলতে ষড়য্ন্ত্র করছে।”
ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক বলেন, “জামায়াত শিবিরের এই হামলার ঘটনা প্রমাণ করে এটা দেশের ভিতরে তাদের শক্তির মহড়া। এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে দেশের সকল অসম্প্রদায়িক শক্তিকে এক যোগে কাজ করতে হবে।”
গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “রাজপথে জামায়াত-শিবিরকে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো একট্রা হয়ে প্রতিহত করা হবে।” আমাদের সব সময়ই আমাদের অবস্থান স্বাধীনতা বিরোধীদের বিপক্ষে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
No comments:
Post a Comment