Pages

Sunday, November 11, 2012

টেস্ট ক্রিকেটকেই আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি: পাপন


বিসিবিতে আজ ছিল আনন্দময় একটি দিন। এই দিনে এক যুগ আগে বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেট দরবারে মাথা উঁচু করে নিজেদের উপস্থিতি বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ঘোষণা করেছিল। অভিষেক টেস্ট খেলা বাংলাদেশ আজ ১২ বছর পার করেছে। সে কারণেই আজ বিসিবি অভিষেক টেস্টের সদস্যদের নিয়ে কেক কেটে আনন্দময় কিছুসময় অতিবাহিত করেন বোর্ড কর্মকর্তারা।

টেস্ট সার্টিফিকেট প্রাপ্তির একযুগ পূর্তি উৎসবে ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন কেক কাটা অনুষ্ঠানে মিডিয়াকে বলেছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটই এখন থেকে সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে। সাবেক অধিনায়ক ও খেলোয়াড়দের পরামর্শ, সহায়তা নিয়ে বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটেও বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করা হবে।’

মিরপুর স্টেডিয়ামে টেস্ট ম্যাচে যুগ পূর্তি অনুষ্ঠানে কেক কাটার অনুষ্ঠানে নাজমুল হাসান বলেন, ‘টেস্ট মর্যাদাই ক্রিকেটে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেকের প্রচেষ্টায় আজকে এই পর্যায়ে এসেছে। যতবেশি খেলোয়াড়-সংগঠককে ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে ততই ভালো হবে। টেস্ট ক্রিকেটকেই আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। অন্য ফরম্যাটে আমরা বেশ উন্নতি করলেও টেস্টে এখন পর্যন্ত তেমন কিছু করতে পারিনি। বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে ভালো করলে অন্য দুই ফরম্যাটেও ভালো করার সম্ভব বলে এই ফরম্যাট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি ভাবছি।’

বিসিবি সভাপতি এদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে সাবেক অধিনায়ক ও খেলোয়াড়, ক্রীড়া সাংবাদিক, প্রিমিয়ার লিগ, প্রথম বিভাগের ক্লাব কর্তৃপক্ষ ও স্পন্সরদের সঙ্গে শিগগির আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। কেক কাটার পর বিসিবি সভাপতি ২০০০ সালের অভিষেক টেস্টের অধিনায়ক নাইমুর রহমানকে কেক খাইয়ে দেন। এবং নাইমুর সভাপতির মুখে একইভাবে কেক তুলে দেন।

সভাপতি আরো বলেন, ‘আমার বর্তমান সূচিতে বছরে ১৮০/১৯০ দিন স্থানীয় ক্রিকেট খেলা থাকে। এর মধ্যেই খেলোয়াড়দের কী করে আরো বেশি বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচ দেযা যায় তা ভেবে বের করার জন্য সাবেক অধিনায়কদের অনুরোধ জানাবো।’

প্রথম টেস্টের অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয় অভিষেক টেস্টের একযুগ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানে বলেন, ‘দুয়েকটা প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলেই আমরা প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেছিলাম। তারপর আমাদের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট এসেছে। বছরে ক্রিকেটাররা অন্তত ৭/৮টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু আমাকে বলতেই হবে, প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট এখনো অবহেলিত। একে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিতে হবে। টেস্টে ভালো করতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই।’

প্রথম টেস্টের কোচ সারোয়ার ইমরান বলেন, ‘আমাদের মূল সমস্যা কিন্তু মাঠ আর উইকেট। আমাদের আরো অনেক মাঠ লাগবে। এর মধ্যে মিরপুরের এই স্টেডিয়ামটি ছাড়া আর কোনো স্টেডিয়াম পাইনি। আমাদের প্রাণবন্ত উইকেটে বেশি ম্যাচ খেলতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।’

২০০০ সালের ১০ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের খেলোয়াড় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সেই সময়ের নির্বাচকরাও। বর্তমান ক্রিকেটারদের মধ্যে এসেছিলেন সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালরা।

No comments:

Post a Comment